পাবনা মানসিক হাসপাতালের ৮৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে রোগীদের জন্য পণ্য কিনে ৮৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শহীদুল আলম সরকার বুধবার দুদকের পাবনা কার্যালয়ে তাদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, জেলার সাবেক বিপণন কর্মকর্তা (বর্তমানে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দিনাজপুর কার্যালয়ে কর্মরত) হুমায়ুন কবীর, হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহ ঠিকাদার এইচ এম ফয়সাল, এইচ এম রেজাউল ও এইচ এম আরফিন। এ তিন ঠিকাদার সম্পর্কে পরস্পরের ভাই। তাদের বাড়ি পাবনা জেলা শহরে। মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও সাবেক বিপণন কর্মকর্তাকে সবগুলো মামলায় আসামি করা হয়েছে।
পাবনা মানসিক হাসপাতাল ও সরকারি শিশু পরিবারে সরবরাহ করা একই পণ্যের আলাদা দর যাচাই করে মানসিক হাসপাতালে বেশি দামে পণ্য কিনে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায় দুদক।
২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজারে সরকারি শিশু পরিবারের জন্য এক কেজি আলুর দর দেখানো হয় ১৫ টাকা, তখন পাবনা মানসিক হাসপাতালের জন্য আলু কেনা হয়েছে ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে। একইভাবে ১০৩ টাকা দরের সয়াবিন তেল কেনা হয় ১৩৯ টাকায়। আর ৪০ টাকা কেজি দরের চাল কেনা হয় ৫৪ টাকা ৫০ পয়সায়।
এ ব্যাপারে দুদকের পাবনা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. খাইরুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০১৯ সালের দিকে প্রাপ্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা মেলায় মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক চিকিৎসক তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই দরপত্র অনুমোদন করা হয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি যথাযথভাবে যাচাই বাছাই করে দরপত্র অনুমোদন করেছে। এখানে কোনো অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি।