পারিশ্রমিক নিয়ে দ্বন্দ্বে বাসের সুপারভাইজারকে হত্যা করে হেলপার: সিআইডি

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

লক্ষ্মীপুরে সদর থানার ঝুমুর মোড়ে গত ৯ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি বাসের ভেতর থেকে সুপারভাইজারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পারিশ্রমিক নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ওই বাসের সুপারভাইজারকে খুন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ রোববার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

তিনি বলেন, ঘটনাটি দেশজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদ প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে মো. ইউসুফ ভুঁইয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে গত ১৬ এপ্রিল এলআইসির একটি দল অভিযান পরিচালনা নরসিংদী জেলার মাধবদী এলাকা ইউসুফ ভুঁইয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে ইউসুফ। সে ভবঘুরে জীবনযাপন করত বলে তার এক প্রতিবেশী তাকে বাসে হেলপারের চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং সে রাজি হয়ে যায়। পরে ওই বাসে চালকের সহকারী হিসেবে তাকে কাজ করার ব্যবস্থা করে দেন ওই প্রতিবেশী। গত ৮ এপ্রিল ঢাকার মানিকনগর বাস কাউন্টার থেকে চালক নাহিদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে সুপারভাইজার রিয়াদ হোসেন লিটন (৩৭), পুরাতন স্টাফ শিপনসহ যাত্রী নিয়ে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, সেদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় লক্ষ্মীপুর পৌঁছে যাত্রীদেরকে গন্তব্যে নামিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ঝুমুর মোড়ে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বাসটি পার্কিং করা হয়। এসময় পুরাতন স্টাফ শিপন ২ দিনের ছুটিতে যাবে বলে তার স্থলে ৯ এপ্রিল ভোর থেকে সহকারী হিসেবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ইউসুফ ভুঁইয়া (২৫) গাড়িটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে থাকে। চালক নাহিদ হোসেন, সুপারভাইজার রিয়াদ হোসেন লিটন ও সহকারী শিপন তাদের সারাদিনের প্রাপ্য মজুরী নিয়ে নাহিদ ও শিপন বাড়িতে চলে যায়। পরে রাত ১টার দিকে নতুন সহকারী ইউসুফ গাড়িতে থাকা সুপারভাইজার লিটনের কাছে তার পারিশ্রমিক চায়। কিন্তু, লিটন জানায়, তার ডিউটি এখনো শুরু হয়নি। পরে তাদের মধ্যে তক-বিতর্ক এবং পরবর্তীতে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা লোহার তৈরি হুইল রেঞ্জ দিয়ে ইউসুফ সুপারভাইজার রিয়াদ হোসেন লিটনকে মাথা বরাবর আঘাত করলে বাসের মধ্যেই তার হয়। তখন সহকারী ইউসুফ তাকে বাসের সিটের বসিয়ে পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনার পর রিয়াদ হোসেন লিটনের স্ত্রী হালিমা আক্তার অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা হিসেবে রুজু হয়।