পিস্তল, গুলিসহ মাদক চোরাকারবারি গ্রেপ্তার
রাজধানীর শাহআলী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক চোরাকারবারি মাহমুদুল হাসানকে (৪১) বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন, গুলি এবং ইয়াবা ও জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এসময় তার কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে র্যাব-৪ এর পুলিশ সুপার (এসপি) জয়িতা শিল্পী দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গতকাল বুধবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শাহআলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া র্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মাহমুদুল হাসান নামক একজন সন্ত্রাসী রাজধানীর শাহআলী থানাধীন দিয়াবাড়ি ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল তার ওপর নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে। এরপর তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শাহআলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১ টি ম্যাগজিন, ২ রাউন্ড গুলি, ১ টি হরিণের চামড়া, ১ টি প্রাইভেটকার, ১০৫ পিস ইয়াবা, জালটাকা এবং নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩৫ টাকাসহ চাঁদাবাজির বিভিন্ন নথিপত্রসহ অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি শাহআলী থানাধীন দিয়াবাড়ী ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল, চাঁদাবাজি, চাঁদার জন্য হুমকি দেওয়া, মাদক ব্যবসা ইত্যাদি অপরাধের সঙ্গে সে জড়িত। দিয়াবাড়ী এলাকায় চলমান বাস-ট্রাক এবং যেকোনো পণ্য পরিবহনকারী পিকআপ ও অন্যান্য পরিবহনে তিনি চাঁদাবাজি করছিলেন। এছাড়াও ওই এলাকায় মাদক কেনা বেচা, মাদক সেবনের ঘাঁটি এবং সহযোগীদের আড্ডাখানা ছিল সন্ত্রাসী মাহমুদুল হাসানের অফিস। স্থানীয় তদন্তে জানা যায়, মাহমুদুল হাসান ২০০৪ সালে কাফরুল থানাধীন এলাকায় একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পরে। বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাসী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মাহমুদুল মিরপুরের একটি স্কুল হতে ১৯৯৮ সালে এসএসসি সম্পন্ন করেন। এরপরই তিনি ধীরে ধীরে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতারণামূলক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে ও তার পলাতক সহযোগীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, জালটাকা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।