লালমনিরহাট

পুলিশের হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে পুলিশের হেফাজতে যুবক রবিউল ইসলামের (২৬) মুত্যুতে তার বাবা দুলাল খানের পাশাপাশি এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং লালমনিরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য জি এম কাদের ও জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু।

গত ১৪ এপ্রিল রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কাজীর চওড়া গ্রামে বৈশাখী মেলা থেকে রবিউলকে জুয়াড়ি সন্দেহে আটক করে পুলিশ।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আটকের পর তাকে বেদম প্রহার করা হয়। এতে রবিউল সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পর মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে জনতা।

ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার 'সাহস' পাচ্ছেন না জানিয়ে রবিউলের বাবা দুলাল খান আজ বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করলে আমরা টিকতে পারব না। আমি এই ঘটনার বিচার বিভাগীর তদন্ত দাবি করছি।'

একই কথা বলেন নিহতের স্ত্রী মনিরা বেগম। এ ছাড়া এই ঘটনার পর থেকে তারা সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে সম্প্রতি নিহত রবিউলের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেন লালমনিরহাট সদর আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং জেলা  বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু।

রবিউলের বাবার মতোই এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে জি এম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, 'বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে ও প্রকৃত দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত হবে।'

সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলুও বলেন, 'বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় আনা দরকার।'

এদিকে পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ওয়ালিদ হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য ২ সদস্য হলেন হলেন রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (মিডিয়া এন্ড ক্রাইম অ্যানালাইসিস) আকতার হোসেন ও লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ওয়ালিদ হাসান সাংবাদিকদের জানান, তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

ওয়ালিদ বলেন, 'যত দ্রুত সম্ভব আমরা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করব।'