পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যু: বিচার দাবিতে লালমনিরহাটে সড়ক অবরোধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে আটকের পর পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা।

আজ শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। রবিউলের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে এসময় তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

tds_-_2022-04-15t172229.816.jpg
নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: দিপীল রায়/স্টার

নিহত যুবক রবিউল ইসলাম (২৬) সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীর চওড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

যুবক নিহতের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, পুলিশের এমন আশ্বাসের পর এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার কাজীর চওড়া গ্রামে বৈশাখী মেলা থেকে জুয়াড়ি সন্দেহে রবিউলকে আটক করে পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আটকের পর রবিউলকে পেটানো হয়। এতে রবিউল অচেতন হয়ে পড়লে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রবিউল পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী ও ৮ মাস বয়সী কন্যা সন্তান আছে।

সড়ক অবরোধে অংশ নিয়ে নিহতের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, 'আমি এসআই হালিমুরসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তারা আমার নিরপরাধ স্বামীকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন।'

লালমনিরহাট-বুড়িমারী সড়কে অবরোধকালে উপস্থিত হয়ে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'নিহত রবিউলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই জানা যাবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।'

'পুলিশের নির্যাতনে যদি রবিউলের মৃত্যু হয়, অবশ্যই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,' তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, 'স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন। তারা আমাকে কথা দিয়েছেন এ ঘটনায় আর কোনো সড়ক অবরোধ করবেন না।'