প্রতারণার মামলায় সাহেদের বিচার শুরু
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রতারণার মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য ২ আসামি হলেন—রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজ ও রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক শিপন আলী।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক দেবদাস চন্দ্র অধিকারী গতকাল মঙ্গলবার অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন।
কারা হেফাজতে থাকা সাহেদ ও অন্য ২ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনালে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
এর আগে বিচারিক আদালত মামলার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি চেয়ে আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন। এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
২০২০ সালের ২৪ জুলাই বালু ব্যবসায়ী এস এম শিপন ২ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, শিপন আলী ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর আসামিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ৫০ হাজার সিএফটি বালু সরবরাহের অর্ডার দেন। শিপন আলী অভিযোগকারীকে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ৩টি চেক দেন। অর্ডার অনুযায়ী ৬১ লাখ টাকার বালু সরবরাহ করেন এসএম শিপন। কিন্তু চেকগুলো ব্যাংক থেকে ডিজঅনার হয়। অভিযোগকারী ব্যক্তি শিপন আলীর কাছে বিলের বাকি টাকা দাবি করেন।
পরে শিপন আলী জানান, সাহেদ ও মাসুদ পারভেজের নির্দেশে তিনি বালুর অর্ডার দেন। টাকা চাওয়ায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শিপনকে অভিযুক্তরা হুমকি ও ভয় দেখিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেন তারা। তখন অভিযোগকারী নিশ্চিত হন যে তারা সবাই প্রতারক।
অভিযোগকারী অনুধাবন করেন, আসামিরা বালু বিক্রির ৬১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আকরাম হোসেন সাহেদসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাহেদকে অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।