প্রাইভেটকার চলে তেলে, সিলিন্ডার ভর্তি গাঁজা-ফেন্সিডিল
গাঢ় নীল এবং সাদা রঙের দুটি প্রাইভেটকার চলে তেলে। কিন্তু গাড়ি দুটির ভেতরেই স্থাপন করা আছে গ্যাস সিলিন্ডার। তবে এই সিলিন্ডারে গ্যাস নয়, ভর্তি করা হয়েছে গাঁজা ও ফেন্সিডিল দিয়ে।
এসব মাদকদ্রব্য প্রাইভেটকারে করে ঢাকায় পাচারের সময় আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এসময় প্রাইভেটকার চালক ও চালকের সহযোগীসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড ও আশুগঞ্জের বগইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজা ও ফেন্সিডিল ভর্তি পৃথক দু'টি প্রাইভেটকার আটক করা হয়।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গ্যাস সিলিন্ডারে গাঁজা ও ফেন্সিডিল ভর্তি করে দুটো প্রাইভেটকারই বিজয়নগর উপজেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। এর মধ্যে গাঢ় নীল রঙের প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার থেকে ৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার ও এর চালক কাসেমকে আটক করা হয়েছে। সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ১৩০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার এবং এর চালক ও সহযোগীসহ ২ জনকে আটক করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'গাঁজা ও ফেন্সিডিল রাখার জন্য দুটো সিলিন্ডারই একই কায়দায় তৈরি করা হয়েছে। বড় সাইজের সিলিন্ডার দুটোর উপুড় করা অংশে ছোট পকেট কাটা রয়েছে। আট ইঞ্চি সাইজের বর্গাকার ওই পকেটের ভেতরে গাঁজা ও ফেন্সিডিল ভর্তি করা হয়। গাঢ় নীল রঙের প্রাইভেটকারটির সিলিন্ডার থেকে ১৩টি গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৯ কেজি। এছাড়া সাদা রঙের প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার থেকে ১৩০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
গাঁজাভর্তি প্রাইভেটকারের চালক কাসেম জানান, গাড়ি এবং এর ভেতরে থাকা ১৩ কেজি গাঁজার মালিক নাজির হোসেন ভূঁইয়া বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে নির্বাচন করেছিলেন। ঢাকায় গাঁজা পরিবহনের পারিশ্রমিক হিসেবে গাড়ির মালিক তাকে প্রতি ট্রিপে ৫ হাজার টাকা দেন বলে জানান তিনি।
ফেন্সিডিল ভর্তি প্রাইভেটকারের চালক সিলেটের বিশ্বনাথ থানার বাউসি গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, গাড়ির সিলিন্ডারে থাকা ফেন্সিডিলগুলো নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এসব ফেন্সিডিল পরিবহনের জন্য তাদেরকে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ফেন্সিডিলের মালিক কে সেটা তিনি জানেন না। তবে এগুলো বিজয়নগর উপজেলার সীমান্তবর্তী হরষপুর এলাকা থেকে গাড়িতে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে গত ২৯ ডিসেম্বর বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ইজিবাইক থেকে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার ও ২ জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মাদক পাচারের জন্য ইজিবাইকের ছাদের উপর একটি বিশেষ চেম্বার বানানো হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন অভিযোগ পেয়ে ইজিবাইকটি আটকের পর ওই চেম্বারের ভেতর থেকে গাঁজা ভর্তি ১৫টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব প্যাকেটে ৩০ কেজি গাঁজা রাখা ছিল।
ওই ঘটনায় আটককৃতরা হলেন- হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মগড় সস্তামোড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও একই উপজেলার মহনপুর গ্রামের হানিফ মিয়া (২৫)। তাদের বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।