ফরিদপুরের সংঘর্ষে স্থানীয় ২ আ. লীগ নেতার মদদ ছিল: পুলিশ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গত মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তাতে স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতার মদদ ছিল বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে পুলিশ।
ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সালথার ওই সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়েে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) জামাল পাশা।
ওই সংবাদ সম্মেলনে দুই আওয়ামী লীগ নেতার মদদে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়। তারা হলেন সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওদুদ মাতুব্বর ও গট্টি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রেজাউর রহমান ওরফে চয়ন।
গত বুধবার সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। ওই মামলায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত ৩ জনসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সালথা উপজেলার বালিয়া গট্টি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বরের অনুসারী এবং একই ইউনিয়নের খন্দকার রেজাউর রহমানের অনুসারীরা শক্তির মহড়ার প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ঢাল, কাতরা, সরকি ও রামদা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আসেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দেয়। সেসময় তারা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ বেপরোয়া ভাব এবং উশৃঙ্খলতা প্রকাশ করতে থাকে। ইটের আঘাতে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমানসহ ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ নিজেদের জানমাল, সরকারি অস্ত্র-গুলি ও সাধারণ জনগণের জানমাল রক্ষার্থে ৩টি কাঁদানে গ্যাস সেল এবং ৭টি শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর জের ধরে গত বুধবার সকাল ৮টার দিকে একই স্থানে ঢাল, কাতরা, সরকি ও রামদা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি হয় বিবাদমান ওই দুই পক্ষ। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তারা আশেপাশের গ্রাম ভাবুকদিয়া, বালিয়া, মধ্য বালিয়া, আড়য়াকান্দি গ্রাম হতে লোক জড়ো করে ব্যাপক সংঘর্ষের উদ্যোগ নেয়। পরে পুলিশ ১৪টি কাঁদানে গ্যাস এবং ৩০টি শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সংঘর্ষ চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যানের দলপক্ষের লোকজন বিরোধী দলপক্ষের পিকুল মোল্লার টিনের বসতঘর ভাঙচুর করে। এসময় বৈদ্যুতিক মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে ঘরে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।
এ ঘটনায় সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাসেদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোনতাসির মারুফ বলেন, এ মামলার এজাহারভুক্ত ৩ আসামি মো. আব্দুস সালাম, পিকুল মাতুব্বর ও নূরুল ইসলামসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ১৬ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে এ সংঘর্ষের নেপথ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওদুদ মাতুব্বর এবং গট্টি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রেজাউর রহমানের মদদ রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে তার প্রতিবাদ করেছেন ওই দুই নেতা।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওদুদ মাতুব্বর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি নিজে দলপক্ষ করি। এলাকায় রাজনীতি করতে হলে দলপক্ষ করতে হয়। তার মানে এই নয় সংঘর্ষ হলে আমি সে ঘটনার সাথে জড়িত। আমি প্রশাসনের লোক আমার পক্ষে সংঘর্ষে মদদ দেওয়া সম্ভব নয়'।
তিনি আরও বলেন, 'পুলিশ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তার কোনো ভিত্তি নেই। আমার জানা মতে এ ঘটনার পেছনে খন্দকার রেজাউর রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রেজাউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আমি অংশ নিয়ে পরাজিত হই। এর পর আমার মেয়ের বিয়েসহ পারিবারিক নানা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এ ঘটনায় আমার কোনো হাত নেই।'