ফরিদপুরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ২ মামলা, গ্রেপ্তার ২৮

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্প্রতি সংগঠিত হামলা ও সংঘর্ষ প্রতিরোধে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া ২ মামলায় স্থানীয় মাতুব্বর ও তাদের পরিবারের ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সালথা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা ২টি দায়ের করে। একটি মামলা করা হয় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে। অপর মামলাটি হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ আইনে।

পুলিশের ওপর হামলার মামলাটির বাদী সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস আই মোজাম্মেল। এ মামলায় ৮১ জনকে নামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে সালথার কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এ মামলার ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এরা হলেন- বালিয়াগট্টি সরোয়ার মাতুব্বর (৬৫), মনিরুজ্জামান মাতুব্বর (৩০), শাকিল খালাসী (১৯), মোস্তাফা মাতুব্বর (৫০), শাকিল শিকদার (২৩), মো. জুয়েল রানা (২৭), সিংহপ্রতাপ গ্রামের ইকরাম সরদার (৪৫), পূর্ব মোড়হাট গ্রামের সাইফুল ইসলাম (২৫), মিঠুন মাতুব্বর (২৩), গৌরদিয়া গ্রামের কামাল মাতুব্বর (৩৬), ঝুনাখালী গট্টি গ্রামের মজনু মাতুব্বর (৩৫), পারভেজ মাতুব্বর (৩২) ও মো. হাসান শেখ (৩৭)।

আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন- ২০১৯-এ দায়ের করা মামলার বাদী সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীয়তুল্লাহ। এ মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে।

গত বুধবার রাতে এ মামলার ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলেন- মাঝারদিয়ার মো. কিরন ফকির (৩১), মো. ফুলমিয়া শেখ (৩৮), মো. শাকিল শেখ (১৯), নওপাড়া গ্রামের আলম মাতুব্বর (২২), সোহাগ হোসেন (১৯), পলাশ মাতুব্বর (২৫), দিদার মোল্লা (৩৮), চান্দাখোলা গ্রামের চান মোল্লা (৫৫), সৈয়দ নাইম (১৯), হায়দার সরদার (৪২), হায়াত সরদার (৫৫), পান্নু মীর (৪৫), সৈয়দ হারুন (৫৭), সৈয়দ ইবাদত আলী (৫৫) এবং বড় খারদিয়া গ্রামের সৈয়দ কার্জ্জুামান (৫৫)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত রিমান্ড শুনানির দিন পরে ঠিক করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তাদের কারাগারে পাঠান।

সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনূর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'যেসব মাতুব্বরদের কারণে এ এলাকা অশান্ত হয়ে উঠেছে তাদের গ্রেপ্তারে গত বুধবার রাতে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ ওই রাতে বেশ কয়েকজন মাতুব্বর, তাদের ছেলে ও স্বজনদের গ্রেপ্তার করে।'

তিনি আরও বলেন, 'বুধবার রাতে পুলিশি অভিযানের পর গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার নতুন করে কোন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত গত ৩ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনে সালথার জয়ঝাপ, খারদিয়া, গট্টি, আটঘর ও মাঝারদিয়াতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে ৯১ জন আহত হন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন ২ জন। অর্ধশত বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।'

প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান তিনি।