ফরিদপুরে ২ দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ পক্ষের সংঘর্ষে নান্নু ফকির (৬৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষে ৬ পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। 

বুধবার দিনগত রাতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ও বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের জনগণের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারীর রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঙ্গে রূপাপাত ইউনিয়নের বামন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান ওরফে কাইউম মোল্লার বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সালথার যদুনন্দী এবং বোয়ালমারীর রূপপাত কুমার নদের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। পারাপারের জন্য নদের মাঝে একটি সেতু রয়েছে।                                                          

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গত ২৪ এপ্রিল যদুনন্দীর গ্রামের ২ তরুণ পাশের রূপাপাত বাজারে গেলে চেয়ারম্যান মিজানুরের সমর্থক তাদের মারধর করে। এ ঘটনায় পাশের ডহন নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি মামলাও হয়।

এরপর বুধবার সন্ধ্যায় যদুনন্দী গ্রামের মো. ইলিয়াসের ছেলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী (১৪) রূপাপাত বাজারে গেলে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা তাকে মারধর করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কাইউম যদুনন্দী থেকে তার দলবল নিয়ে নদীর সেতু পার হয়ে এগুতে চাইলে মিজানুর রহমানের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বৃদ্ধ নান্নু ফকিরসহ উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা ও বোয়ালমারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবার বুলেট, শর্ট গানের গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ সময় ৮ পুলিশ সদস্য আহত হন।

এতিকে আহত নান্নু ফকিরকে পাশের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কায়উম মোল্লার মুটোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'সংঘর্ষের সময় ইটের আঘাতে নান্নু ফকির নামে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। সালথা থানার পুলিশ শর্টগানের ১৮টি গুলি, একটি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৫টি কাদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সালথা থানার এসআই মো. মিরাজ হোসেনসহ পুলিশের ৫ সদস্য আহত হন।' 

সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) সুমন কর বলেন, 'বোয়ালমারী থানার পুলিশ ১৪টি রাবার বুলেট, শর্ট গানের ১৫টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন এ সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ডহন নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোক্তার হোসেনসহ পুলিশের ৩ সদস্য আহত হন।'
 
তিনি বলেন, '২ থানার পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।'