ফেনীতে ব্যবসায়ীর স্বর্ণ লুট, এখনো উদ্ধার হয়নি ৫টি স্বর্ণের বার

ডিবি পরিদর্শকসহ ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফেনী

ফেনীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর লুট হওয়া ৫টি স্বর্ণের বার এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে, ওই ব্যবসায়ীর দায়ের করা মামলায় ফেনীর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শকসহ ছয় জনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মামলার এজেহারে ২০টি স্বর্ণের বার লুটের দাবি করেছেন চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি জানান।

তিনি বলেন, 'ওই ব্যবসায়ীর লুট হওয়া ২০টি স্বর্ণের বারের মধ্যে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৫টি উদ্ধার করা হয়। তবে, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত বাকি ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।'

তিনি আরও বলেন, 'ছয় আসামির মধ্যে গতকাল আদালত শুনানি শেষে ডিবি পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের ৪ দিন ও অন্য ৫ জনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।'

বুধবার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ খান ডিবি পরিদর্শক সাইফুলের ৪ দিন ও অপর ৫ জনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদের রিমান্ড আবেদন খারিজ ও আসামিদের জামিন আবেদন জানালে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

ফেনী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ব্যবসায়ীর স্বর্ণের বার লুটের মামলায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শকসহ ছয় জনকে আদালতের নির্দেশে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ব্যবসায়ীর দাবি করা অবশিষ্ট ৫টি স্বর্ণের বার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি।'

ওসি মো. নিজাম উদ্দিন আরও বলেন, 'ছয় আসামিকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

এর আগে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস ফেনীর ডিবি পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলামসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ করে ফেনী সদর মডেল থানায় (৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড-১৮৬০) একটি ডাকাতির মামলা করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর গতি রোধ করে ডিবি পুলিশের সদস্যরা। তাকে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা আটক রেখে ক্রসফায়ার ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ২০টি স্বর্ণের বার রেখে দেয়। পরে তাকে চট্টগ্রামের বারইয়ার হাট এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

লুট হওয়া ২০টি স্বর্ণের বারের মূল্য এক কোটি ২৩ লাখ ৪ হাজার ৫৯৭ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এই মামলার আসামিরা হলেন- জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি ডিবি) মো. সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতাহার হোসেন, নুরুল হক, মিজানুর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) অভিজিত বড়ুয়া ও মাসুদ রানা।

ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুনবী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। বর্তমানে তার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'