ফোনে আড়িপাতা বন্ধে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিট
টেলিযোগাযোগে গোপনীয়তা রক্ষা ও ফোনে আড়িপাতা-রেকর্ডিং বন্ধে সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে তা জানতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। এ ছাড়া, রিটে ফোনে আড়িপাতা বন্ধের পাশাপাশি তা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এই আবেদন করেন।
রিট আবেদনকারী ১০ আইনজীবী হলেন, রেজওয়ানা ফেরদৌসী, উত্তম কুমার বণিক, শাহ নাবিলা কাশফী, ফারহাদ আহমেদ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ নোয়াব আলী, মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, মুস্তাফিজুর রহমান, জিএম মুজাহিদুর রহমান (মুন্না), ইমরুল কায়েস এবং একরামুল কবির।
আইনজীবীরা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্য ডেইলি স্টারসহ দেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় টেলিফোনে ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ডিং ও আড়িপাতার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
গত ২৫ মে দ্য ডেইলি স্টারে একজন এসপি ও এএসপি'র টেলিফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়া সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়াও, অন্যান্য দৈনিকগুলোতে নানা সময়ে ফোনে আড়িপাতা ও ফোন রেকর্ডিং সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
রিটে বলা হয়, সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অধিকার সংবিধান কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে।
রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩০ (১) (চ) ধারা এবং সংবিধানের ৩৯ ও ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কমিটি গঠন করে ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত ফোনালাপের উল্লিখিত ঘটনাগুলো তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হাইকোর্ট রিট আবেদনের শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারণ করেননি।'