বংশালে নিজ বাসায় নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
রাজধানীর বংশালে সিদ্দিকবাজার এলাকার একটি বাসায় পান্না বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে পান্না বেগমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার রাত ১১টার দিকে পান্না বেগমকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পান্না বেগমের মেজ ছেলে কাজী মাহফুজুর রহমান জুবায়ের দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বংশালের সিদ্দিকবাজার এলাকায় একটি পাঁচতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। মা বিকেলের পর থেকে একাই বাসায় ছিলেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সংবাদ পাই, মা বাসার মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দ্রুত বাসায় ফিরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।'
জুবায়ের আরও বলেন, 'আমার মায়ের দুই কানে ৮টি স্বর্ণের দুল, একটি নাকফুল, দুই হাতে তিনটি স্বর্ণের আংটি, দুই পায়ে রুপার নুপুর ও একটি স্মার্ট ফোন ছিল সেগুলো পাওয়া যায়নি। বাসার আসবাবপত্রগুলো এলোমেলো ছিল। এখনো পর্যন্ত বুঝতে পারছি না কারা, কেন আমার মাকে হত্যা করেছে।'
মৃত পান্না বেগমের বড় ছেলের বৌ আশা মনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনার সময় আমরা কেউ বাসায় ছিলাম না। রাতে খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখি বিছানাপত্র, বালিশ সব এলোমেলো। আমার শাশুড়ি খাটের নিচে পড়ে আছেন। তার ওপরে বালিশ পড়ে আছে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।'
বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেদায়েত হোসেন মোল্লার সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেন, 'গতকাল বিকেলে খাওয়া নিয়ে ছেলে জুবায়েরের সঙ্গে পীড়াপিড়ি করেন। পরে না খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় জুবায়ের। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িওয়ালার ছেলে সামাউল তিন তলার বাসায় অন্ধকার ও দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভিতরে উঁকি মেরে দেখতে পান, পান্না বেগম মেঝেতে পড়ে আছেন। পরে তার মাকে খবর দিলে গিয়ে দেখেন পান্না বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তাদের ছেলে জুবায়েরকে খবর দেয়। জুবায়ের এসে তার মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।'
এসআই আরও উল্লেখ করেছেন, মৃত পান্নার নাকের ওপড়ে রক্ত জমাট ছিল, ঘাড়ের নিচে মাঝ বরাবর দেড় ইঞ্চি কাটা জখম আছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জান্নাতুন নাঈম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।
মর্গ সূত্রে জানা গেছে, তার ঘাড়ের নিচে থেকে ছুরির ভাঙা অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ছুরির আঘাতে তার ফুসফুস ছিদ্র হয়ে গেছে। এ ছাড়া মৃতদেহ থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দীন মোল্লা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ ঘটনায় একটা হত্যা মামলা হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। তবে, তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে।'