বর্গাচাষীকে মারধর ও জমি দখলের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হকের বিরুদ্ধে বর্গাচাষী জাহেদুল ইসলামকে মারধর করে জমি দখল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে ওই চেয়ারম্যানসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করে হাতীবান্ধা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বর্গাচাষী জাহেদুলের স্ত্রী নুরজাহান।
এর আগে বুধবার সকালে নওদাবাস ইউনিয়নের কেতকীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বর্গাচাষী জাহেদুল ইসলাম (৬৫) দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, টংভাঙ্গা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের জমিতে বর্গাচাষী হিসেবে চাষাবাদ ও দেখাশুনা করে আসছেন তিনি। চার শতাংশ জমির উপর বাঁশঝাড়ের মালিকানা দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক ও তার লোকজন বুধবার সকালে বাঁশ কাটতে থাকেন। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় বলে জানান তিনি।
'গেল কয়েকবছর ধরে জাহাঙ্গীর আলমের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছি। জমির মালিকের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটায় আমি বাধা দেই। গতকাল ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন বাঁশঝাড় থেকে কয়েকশ বাঁশ জোরপুর্বক কেটে নিয়ে যায় এবং চার শতাংশ জমি দখলে নেয়। বাধা দিলে তারা আমাকে মারধর করে। আমার গালে চড় দিয়ে একটি দাঁত ফেলে দেয়। এ সময় আমার স্ত্রী ও কন্যাকেও মারধর করা হয়,' বলেন তিনি।
বর্গাচাষী জাহেদুল ইসলাম বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'আমি সরকারি চাকরির কারণে অন্য এলাকায় থাকি। আমার জমি বর্গা নিয়ে জাহেদুল ইসলাম চাষাবাদ করেন। ক্রয়সূত্রে আমি ওই জমির মালিক। ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন জোরপুর্বক বাঁশ কেটে নিয়ে জমি বেদখল করেছেন।'
বর্গাচাষী জাহেদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ এখনো এটিকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি ও আমার ভাইয়েরা ওই বাঁশঝাড়ের মালিক। আমরা নিজেদের বাঁশঝাড়ের বাঁশ কেটে নিয়ে গেছি। আমাদের বাধা দিলে বর্গাচাষী জাহেদুলের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে, তবে কোনো মারধর করা হয়নি।'
'বর্গাচাষী জাহেদুলের মুখে দাঁতটি নড়েবড়ে অবস্থায় ছিল। এটা এমনিতেই উপড়ে গেছে,' বলেন তিনি।
হাতীবান্ধা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, ঘটনাটি জানা মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হকসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পুলিশ তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।