বান্দরবানে মানবাধিকার নেত্রীর বিরুদ্ধে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ
বান্দরবান শহরের এক মানবাধিকার নেত্রীর বিরুদ্ধে এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত মানবাধিকার নেত্রী সারা সুদীপা ইউনুসের বাসা থেকে পালিয়ে যায় ভুক্তভোগী শিশু।
নয় বছর বয়সী ওই শিশুটির বাড়ি লামা উপজেলায়। বর্তমানে সে বান্দরবান শহরের হাফেজঘোনা এলাকায় রওশন আরা বেগমের আশ্রয়ে আছে।
আজ বুধবার শিশুটি অভিযোগ করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলে, ‘সুদীপা ম্যাডাম আমাকে জ্বলন্ত মশার কয়েল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দিয়েছে। উনার স্বামীর খাবার তাড়াতাড়ি বানাইনি বলে ম্যাডাম বলেছে আমাকে বাড়ির দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলবে।’
তার বর্তমান আশ্রয়দাতা রওশন আরা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শিশুটির মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আর একটি বিয়ে করলে সে পুরোপুরি এতিম হয়ে যায়।’
রওশনের বাড়ি লামায় এবং শিশুটি সেখানে তার প্রতিবেশী বলে জানান তিনি।
‘গত নয় মাস আগে একজন পরিচিতজনের মাধ্যমে মানবাধিকার নেত্রী সারা সুদীপা এবং ফয়সাল দম্পতির বাসায় শিশুটি গৃহকর্মীর কাজ নেয়,’ রওশন বলেন।
‘গতকাল রাতে বান্দরবান সদর থানার দায়িত্বরত পুলিশকে নির্যাতনের বিষয়টি জানালে, পুলিশ আমাদের দরখাস্ত লিখে আনতে বলেন,’ বলেন তিনি।
রওশন জানান, তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা জানিনা। দরখাস্ত কিভাবে লিখব?’
যোগাযোগ করা হলে বান্দরবান সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. সোহাগ রানা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গতকাল রাতে যিনি থানায় ডিউটি অফিসার ছিলেন, তিনি আমাকে এই ব্যাপারে কিছুই জানায়নি।’
ডিউটি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইন্সপেক্টর সোহাগ বলেন, ‘শিশুটি কিংবা শিশুটির সঙ্গে থাকা ওই নারী কোন দরখাস্ত দেননি।’
তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির শরীরে বিভিন্ন আঘাতের বর্ণনার একটি ভিডিও তিনি দেখেছেন বলে জানান।
অভিযুক্ত সারা সুদীপা ইউনুসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। যদি অভিযোগ ঠিক হতো, তাহলে থানায় আমার বিরুদ্ধে মামলা নিত।’
‘থানা আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নিবে না। কারণ, থানা জানে আমি মানবাধিকার নিয়ে কাজ করি,’ বলেন সারা সুদীপা ইউনুস।