বাবার কোলে শিশু হত্যা: এখনো গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসামি রিমন

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাবার কোলে গুলিতে ৪ বছর বয়সী শিশু তাসফিয়া আক্তার জান্নাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিমনকে (২৬) এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর স্বজনরা।

পুলিশ বলছে, রিমনসহ আত্মগোপনে থাকা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে সব রকমের চেষ্টা চলছে।

গত বুধবার বেগমগঞ্জের পূর্ব হাজীপুর গ্রামে একদল যুবকের গুলিতে তাসফিয়া নিহত হয়। এতে আহত হন তার সৌদি আরব প্রবাসী বাবা আবু জাহের।

zannat.gif
তাসফিয়া আক্তার জান্নাত। ছবি: সংগৃহীত

এ ঘটনায় বাদী হয়ে নিহত তাসফিয়ার খালু হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার দুপুরে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়।

এ্রর মধ্যে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এমাম হোসেন স্বপন (৩২), জসিমউদদীন বাবর (২৩) ও দাউদ হোসেন রবিন (১৮) নামের ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে শিশু তাসফিয়া হত্যার বিচার ও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার বিকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকার বাসিন্দারা। তার আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাসফিয়ার মরদেহ নিয়েও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।  

বুধবার বিকাল ৩টায় বাবার সঙ্গে পাশের মামুনের দোকানে চকলেট কিনতে গিয়েছিল তাসফিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী দোকানি ও নিহতের মামাতো ভাই আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য, মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে রিমনের নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্য রহিম, মহিন ও সুজনসহ ১০-১৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দোকানে এসে তাকে গালিগালাজ করে। ওই সময় তার মামা জাহের শিশুকন্যা তাসফিয়াকে নিয়ে দোকানে আসেন চিপস আর চকলেট কিনে দেওয়ার জন্য। রিমন তখন জাহেরকে দোকানে দেখে তাকেও গালমন্দ করা শুরু করে। প্রথমে তারা আবু জাহের ও তার মেয়েকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি করে। ওই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তাসফিয়াকে ইট দিয়ে আঘাত করে।

মামুন বলেন, 'এরপর মামা (আবু জাহের) দোকান থেকে বের হয়ে বাড়ির দিকে যেতে থাকলে রিমন ও তার বাহিনীর সদস্যরা আবার পেছন থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এ সময় তাসফিয়ার কানে ও মাথায় এবং মামার চোখে গুলি লাগে।'

এরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাসফিয়াকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সে মারা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হলেও তাসফিয়ার বাবা আবু জাহের মাটি কেনা-বেচায় যুক্ত নন। তাদের ভাষ্য, জমির মাটি কাটা নিয়ে আবু জাহেরের বাড়ির এক ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজনের বিরোধ রয়েছে। এই ঘটনায় সালিশ-বিচারও হয়েছে। ওই সালিশে তাসকিয়ার বাবার আবু জাহের উপস্থিত ছিলেন। সে কারণে হামলাকারীরা আবু জাহেরের উপর ক্ষুব্ধ ছিল।

হামলাকারীরা গুলি করার সময় সেই ঘটনারও উল্লেখ করেছিল বলে জানায় স্থানীয়রা।

সন্তানহারা বাবার আহাজারি, ক্ষোভ

তাসফিয়ার স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, তার জন্মের সময় বাবা আবু জাহের সৌদি আরব ছিলেন। এরমধ্যে তিনি আর দেশে আসেননি। তাই বাবাকে পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত ছিলে চার বছরের এই শিশু। সব সময় বাবার সঙ্গেই কাটছিল তার সময়।

সন্তান হারানোরে শোকে কাতর আবু জাহের দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কী কারণে আমার মেয়েকে পাখির মতো গুলি করে মারল আমি জানি না।'

এখন পর্যন্ত প্রধান আসামি রিমনসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।

জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজিব ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবসহ পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন) একাধিক দল কাজ করছে। যেহেতু আসামিরা এখন এলাকাছাড়া, তাই তাদের গ্রেপ্তারে খানিকটা সময় লাগছে।'