'বিচারহীনতার প্রতীক ত্বকী'

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি পুণর্ব্যক্ত করে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেছেন, ত্বকী এখন বিচারহীনতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ত্বকীর বিচার না হলে গোটা রাষ্ট্রই অপরাধী থেকে যাবে। যার দায় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

আজ শুক্রবার ত্বকীর ২৬তম জন্মদিন উপলক্ষে 'সপ্তম জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা ২০২১'-এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। একদিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, আরেকদিকে ভীতির সংস্কৃতি। এর কারণেই একটা হতাশা দেখা দিচ্ছে। ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে আমরা সমবেত হচ্ছি বছরের পর বছর ধরে। প্রত্যেক বছর আমাদের অনুভূতি হয় এ রকমের যে আমরা অপরাধী। এই কিশোরকে আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি।'

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, 'আমরা কেবল যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই তা না। আমরা এটাও চাই যেনো ত্বকীরা সমাজে বাঁচতে পারে। তাদের যে মেধা, যে সম্ভাবনা, জ্ঞানানুশীলনের যে আগ্রহ, সেগুলো যেনো তারা বিকশিত করতে পারে। তাই ত্বকীর বিচারের আন্দোলন সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনও বটে।'

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, 'ত্বকী হত্যার বিচার কেন হচ্ছে না, আমার মনে হয় তা নারায়ণগঞ্জবাসীসহ গোটা দেশের মানুষ বুঝতে পারে। এর সঙ্গে এমন প্রভাবশালী লোকজন জড়িত, যারা রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় নিজেদের বেড়ে ওঠা, নিজেদের লাইফস্টাইল ও চলাফেরার জন্য এমনই মনে করে যে, রাষ্ট্রকেও তারা মানতে চান না। রাষ্ট্রও তাদের ভয় পায় কিনা আমি ঠিক জানি না।'

আইভী প্রশ্ন রাখেন, 'তা না হলে কী এমন গোপন রহস্য যে, হত্যাকারীর বিচার হবে না? আমরা এই হত্যাকাণ্ডের অবশ্যই বিচার চাই। আশা রাখতে চাই এই কারণে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, আমি এই দলেরই একজন সদস্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস উনি দীর্ঘদিন ওনার বাবা-মা হত্যার বিচার চেয়েছেন এবং বিচার করেছেন। তাই আমার বিশ্বাস অবশ্যই রাষ্ট্র এই বিচার করবে।'

তবে যতদিন পর্যন্ত এই বিচার না হবে ততদিন পর্যন্ত ত্বকী হত্যার বিচারের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আইভী।

শিক্ষাবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, 'স্বাধীনতার ৫০ বছরেও বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সাম্য তো নয়ই। আর সবচেয়ে বড় অমর্যাদার বিষয় হচ্ছে হত্যার বিচার না হওয়া।'

নিহত ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক হালিম আজাদ প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে চিত্রাঙ্কন ও রচনায় ৮০০ এর বেশি প্রতিযোগী অংশ নেয়। চিত্রাঙ্কন ও রচনার প্রতিটি বিষয়ে ৩টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটির প্রথম স্থান অধিকারীকে 'ত্বকী পদক' দেওয়া হয়।

উভয় বিষয়ের প্রতিটি বিভাগের সেরা ১০ জনের ছবি ও লেখা নিয়ে প্রকাশ করা হয় সুশোভিত স্মারক 'ত্বকী'।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ অপহরণের ২ দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর শাখাখাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল।

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী এ লেভেল প্রথম পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছে ছিল তার। নারায়ণগঞ্জের সুধীজন পাঠাগারে যাওয়ার পথে যেদিন তিনি অপহৃত হন, তার একদিন পরই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় ত্বকীর।