ব্যবসায়ী শিবু অপহরণ মামলায় আরও ১ আসামি গ্রেপ্তার
২০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবিতে পটুয়াখালীর ব্যবসায়ী শিবু লাল দাসকে অপহরণের ঘটনায় আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোববার রাতে ঢাকার আবদুল্লাহপুর এলাকা থেকে মামলার আসামি জসিম উদ্দিন মৃধা ওরফে বিআরটিসি জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে পটুয়াখালী নিয়ে আসা হলে সন্ধ্যায় তাকে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুর রহমানের আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে জসিমকে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে শনিবার রাতে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ ঘটনায় শামীম আহমেদ (৩৯), আখতারুজ্জামান সুমন (৩২), আতিকুর রহমান পারভেজ (৩২), গাজী মিজানুর রহমান ওরফে সাবু গাজী (৪০), বিল্লাল (৪১) ও সাব্বির হোসেন ওরফে জুম্মান (২২) নামের আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত জসিম ওরফে বিআরটিসি জসিম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের গলাচিপা এলাকার মৃত সেকান্দার মৃধার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার আবদুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন রুটে বিআরটিসি পরিবহন পুলের চালক হিসাবে কর্মরত ছিল। মূলত গাড়ি চালনার আড়ালে তিনি পেশাদার সন্ত্রাসী এবং ভাড়ায় বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কাজ করে বলে জানান এসআই নুরুল ইসলাম।
জসিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় মাস খানেক আগেই আসামিরা ব্যবসায়ী শিবু লাল দাসকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। ঘটনার ২৫ দিন আগে ঢাকা থেকে অন্তত ৫ জন সন্ত্রাসীকে পটুয়াখালী আনা হয়। নিজেদের মধ্যে নিরাপদে যোগাযোগ করতে কেনা হয় ৫টি মোবাইল। আর এই পুরো কাজটি পরিচালনা করেছন সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নানের সহযোগী মামুন ওরফে ল্যাংড়া মামুন।
অপহরণের পর জসিম পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় যাবার সময় শিবু দাস ও তার গাড়ির চালক মিরাজের মোবাইল ২টি নদীতে ফেলে দেন।
ঘটনার মূল হোতা মামুনকে খুঁজছে পুলিশ। পটুয়াখালীতে মামুনের একটি পোশাকের দোকান থাকলেও শিবু দাসকে উদ্ধারের পর তিনি পলাতক আছেন।
এদিকে ইতোপুর্বে গ্রেপ্তারকৃত স্বেচ্ছাসেবকলীগের পটুয়াখালী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান পারভেজকে সোমবার দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ী শিবু লাল দাস ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে গলাচিপা পৌর এলাকায় তার ধান-চালের আড়ত থেকে নিজ গাড়ি যোগে পটুয়াখালীর বাসায় যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাদুরা এলাকা থেকে মুখোশ পরিহিত একদল অপহরণকারী তাকে এবং তার গাড়ির চালককে অপহরণ করেন। শিবু লালের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে তার স্ত্রী বিউটি দাসকে ফোন দিয়ে ২০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ওই রাতেই শিবু লাল দাসের ছেলে বুদ্ধদেব দাস পটুয়াখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন পুলিশ পটুয়াখালী শহরের কাজী পাড়া এলাকার 'এসপি কমপ্লেক্স' নামের একটি শপিং সেন্টারের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে মুখে টেপ পেঁচানো ও হাত পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার করে।
পরে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত ব্যটারি চালিত অটোরিকশার চালক বিল্লাল প্যাদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।