ব্লগার অনন্ত হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট

সিলেটের বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় ৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২ আসামি—শফিউর রহমান ফারাবী ও আবুল খায়ের রশীদ আহমেদকে কারাগারকে আদালতে হাজির করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, আবুল খায়ের রশীদ আহমেদ, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হুসাইন, হারুনুর রশীদ ও ফয়সল আহমেদ। এদের মধ্যে ৩ জন পলাতক। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় শফিউর রহমান ফারাবীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এছাড়া, কারাবন্দি অবস্থায় মান্নান নামে আরেক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি মুমিনুর রহমান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। অনন্ত বিজ্ঞান লেখক ছিলেন। আসামিরা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাকে হত্যা করে।

অনন্তের দুলাভাই সমর বিজয় সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। একজন আসামিকে খালাস দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।

আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী আব্দুল আহাদ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট না। আমার ক্লায়েন্ট নির্দোষ। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

রায় ঘোষণার পরে প্রিজন ভ্যানে তাদের আবারও কারাগারে নেওয়া হয়।

গত ১৪ মার্চ বিচারিক আদালত এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। ওই দিন আদালতের বিশেষ কৌঁসুলি (পিপি) মুমিনুর রহমান টিটু দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছিলেন, ৪ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। পলাতক ৩ আসামি—ফয়সল আহমদ, হারুন অর রশিদ ও আবুল হোসেনের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।

২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারে নূরানী আবাসিক এলাকার নিজ বাসার সামনে খুন হন ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি 'যুক্তি' নামে বিজ্ঞান বিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

সে রাতেই সিলেটের বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন অনন্ত বিজয় দাশের ভাই রত্নেশ্বর দাশ। মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশের কাছে থাকলেও পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়।

এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা আরমান আলী ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর আদালতে একটি অভিযোগপত্র জমা দিলে আদালত তা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে ২০১৭ সালের ৯ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিলে আদালত তা গ্রহণ করেন।

ওই অভিযোগপত্রে অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যায় শফিউর রহমান ফারাবী, মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহী, আবুল খায়ের রশীদ আহমেদ, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হুসাইন, হারুনুর রশীদ এবং ফয়সল আহমেদকে অভিযুক্ত করা হয়।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন মান্নান। ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যু হয়। বাকি ৩ আসামি এখনো পলাতক।

প্রথম দিকে এই মামলার বিচারকাজ চলে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর ২০২০ সালের শুরুর দিকে মামলাটি সেখানে স্থানান্তর করা হয়।