ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতের স্বপ্রণোদিত তদন্তের নির্দেশ
গাইবান্ধায় ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর বদলে দিয়ে দুস্থদের ভাতার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও পায়নি কোন সুফল। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে প্রকাশিত সংবাদকে আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উপেন্দ্র চন্দ্র দাস।
আজ মঙ্গলবার আদালতের বেঞ্চ সহকারী জাহাঙ্গীর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই গাইবান্ধার সদর থানার আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১৯৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ (১) (সি) ধারা অনুযায়ী স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গাইবান্ধার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপারকে মামলাটি তদন্ত করে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন আদালত।
তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলসহ তদন্তের বিষয়ে ৭ দফা নির্দেশনা দেন আদালত।
সেগুলো হলো-সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তালিকাভুক্তদের দাবি মতে তাদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে বা অন্য কোন উপায়ে তাদের অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তুলে নিয়েছে কিনা, নিয়ে থাকলে কত জনের কি পরিমাণ ভাতা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে তার পরিমাণ সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ; সত্য হলে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের নাম, ঠিকানা, অভিযুক্তদের ভূমিকা, সময়, তারিখ ও স্থান বিস্তারিত তদন্ত করা, ভুক্তভোগীদের সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে ভুক্তভোগীদের ভাতা বিবরণ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও রেজিস্টার সংগ্রহ; জেলা প্রশাসক বরাবর ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেগুলোর লিখিত কপি সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে কোন প্রমাণ থাকলে সেসব সংগ্রহ; প্রতিবেদক, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা এবং ঘটনা সংক্রান্তে আলামত থাকলে জব্দ করার নির্দেশনা দেন আদালত।
সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিবন্ধীসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতা চালু করেছে। উপকারভোগীদের সুবিধার্থে ভাতাপ্রাপ্তি সহজ করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সেখানে একটা ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক উপকারভোগীর ভাতা বঞ্চিত হওয়ার ঘটনাকে 'অ্যালার্মিং' বলে উল্লেখ করেন আদালত।
আদালত এটিকে অমানবিক এবং ঘৃণ্য অপরাধ বলে ঘোষণা করে এই ধরনের অপরাধ শুরুতেই রোধ না করা গেলে দিনে দিনে এরূপ অপরাধ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন।
এর আগে, গত ১৪ জুলাই সময় টিভি’র অনলাইন পোর্টালে 'গাইবান্ধায় ভাতার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক চক্র, অসহায় প্রতিবন্ধীরা' শিরোনামে সংবাদ প্রচার হয়। সেটি আদালতের নজরে আসলে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা আমলে নেন গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং সদর থানার আমলি আদালতের বিচারক উপেন্দ্র চন্দ্র দাস।
যোগাযোগ করা হলে গাইবান্ধার পিবিআই পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখনও আদেশের কপি হাতে আসেনি। মামলার কপি হাতে পেলে আদালতের নির্দেশ মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ভাতাভোগীদের কাছ থেকে তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। এমনকি আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলার বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।
তবে নগদ ও সমাজসেবা অফিসের লোকেরা অনিয়ম করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।