ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ২ পাচার চক্রের ১১ সদস্য গ্রেপ্তার

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মানবপাচার চক্রের মূল হোতা ডিজে কামরুল ও মো. নুরনবী ভুইয়া রানাসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গতকাল রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর, খিলক্ষেত ও  চুয়াডাঙ্গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর এলাকা থেকে ২৩ জন বিদেশে পাচার হতে যাওয়া নারীকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. কামরুল ইসলাম ওরফে জলিল ওরফে ডিজে কামরুল (৩৭), মো. রিপন মোল্লা (২২), মো. আসাদুজ্জামান সেলিম (৪০), মো. নাইমুর রহমান শামীম (২৫), মো. নুরনবী ভুইয়া রানা (৪৪), মো. আবুল বাশার (৫২), মো. আল ইমরান (৪১), মনিরুজ্জামান (৩৫), মো. শহিদ সিকদার (৫৪), প্রমোদ চন্দ্র দাস (৬২), টোকন (৪৫)।

অভিযানে ৫৩টি পাসপোর্ট, ২০টি মোবাইল, ৮ বোতল বিদেশি মদ, ২৩ ক্যান বিয়ার, ২টি মোটরসাইকেল, ১টি ল্যাপটপ, ১ সেট কম্পিউটার, ৯১ হাজার ৪০টাকাসহ মানবপাচার সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করা হয়।

আজ শনিবার র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন র‍্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে- পার্শ্ববর্তী দেশে মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা মো. কামরুল ইসলাম ওরফে ডিজে কামরুলের চক্রের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫-২০ জন। ২০১৯ সাল থেকে চক্রটি সক্রিয়ভাবে মানবপাচার মতো অপরাধ করে আসছে। চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা হতে কমবয়সী নারীদের ফাঁদে ফেলে এবং প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে। তারা ভিকটিমদের নাচ শেখানোর নামে প্রত্যন্ত অঞ্চলের থেকে নারীদের ঢাকায় নিয়ে আসতো। তারপর পার্শ্ববর্তী দেশে বিভিন্ন চাকরির কথা বলে প্রলুব্ধ করে পাচার করতো। এভাবে চক্রটি গত ২-৩ বছরে প্রায় শতাধিক তরুণীকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করেছে। এই চক্রের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশের সিন্ডিকেটের যোগসাজশ আছে। এই চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার ডিজে কামরুল।

তিনি আরও জানান, ডিজে কামরুল ২০০১ সালে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সে বাড্ডা এলাকায় রিকশা চালাত। কিছুদিন পর একটি কোম্পানির ডেলিভারি ভ্যানচালক হিসেবে কাজ নেয়। পরে সে সে ডান্স গ্রুপের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং হাতিরঝিল এলাকায় 'ডিজে কামরুল ড্যান্স কিংডম' ডান্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে। ২০১৯ সালে তার ডান্স ক্লাবের এক তরুণীকে পার্শ্ববর্তী দেশের বিউটি পার্লারে অধিক বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের বোন তার বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাড্ডা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় ৩ মাস কারাগারে ছিল। পরবর্তীতে জামিনে বের হয় এবং পুনরায় তার নারী পাচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। এই চক্রের রিপন, সেলিম এবং শামীম নারী পাচারের অবৈধ কাজে মূলহোতাকে সহায়তা করত বলে স্বীকার করেছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আরেক পাচার চক্রের সদস্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে- তারা মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী একটি চক্র। দেশে তাদের ১০-১২ জন সক্রিয় সদস্য আছে। ৫-৭ বছর ধরে এই চক্রটি সক্রিয়ভাবে মানবপাচার করে আসছে । হাউজকিপিং, নার্স, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি পেশায় নারী কর্মীদের বিনা খরচে মধ্যপ্রাচ্যে প্রলোভন দেখিয়ে তরুণী ও মধ্য বয়স্ক নারীদের প্রলুব্ধ করত এই চক্রটি। মূলত বিদেশে পাচারের মাধ্যমে ভিকটিমদের বিক্রি করে দেওয়া হত। এ পর্যন্ত চক্রটি ৩০-৩৫ জন নারীকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার মো. নুরনবী ভুইয়া রানা।

পার্শ্ববর্তী দেশে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ডিজে কামরুলের নামে বাড্ডা থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ১টি মামলা আছে। এছাড়া অপর চক্রের সদস্য মনিরুজ্জামানের নামে সবুজবাগ থানায় বাংলাদেশ পাসপোর্ট আইনে, প্রমদের নামে পল্টন থানায় প্রতারণার এবং টোকনের যশোর জেলার অভয়নগর থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির ১টি করে মামলা আছে।

গ্রেপ্তার ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।