মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭ পুলিশ আহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, মুন্সিগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মালিপাথর গ্রামে একটি নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে হামলায় আহত হয়েছেন পুলিশের একজন ইন্সপেক্টর, ৩ জন সাব ইন্সপেক্টর, একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও ২ জন কনস্টেবল।  

রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় এ ঘটনা ঘটেছে। 

আজ সোমবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রাজীব খান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

রাজীব খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সদর থানার ৭ পুলিশ সদস্য নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন। পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. ইমরান হোসেনের ভাই মো. সম্রাজ হোসেনের জালের ফ্যাক্টরির ভেতর অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করছিল পুলিশ। মেম্বারের নেতৃত্বে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মাইকিং করে পুলিশকে ডাকাত ঘোষণা করে হামলা করতে বলে গ্রামবাসীদের। এ সময় শতাধিক মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় পুলিশের ওপর। তখন পুলিশ আত্নরক্ষার্থে শর্ট গানের ১১ রাউন্ড গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পিছু হাটে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ১১ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে।  

আহত ৭ পুলিশ সদস্য হলেন, মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. মোজাম্মেল হোসেন; সাব ইন্সপেক্টর ফরিদ হোসেন, মোহাম্মদ নজরুল ও মো. খসরু; সহকারী উপপরিদর্শক জাকির হোসেন এবং কন্সটেবল মো. রায়হান, কন্সটেবল মো. আশিক।

এদের মধ্যে সাব ইন্সপেক্টর ফরিদ, সাব ইন্সপেক্টর নজরুল ও কন্সটেবল রায়হানকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের  ওয়ার্ড মেম্বার মো. ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলা চালায় স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক আছে মেম্বার ও তার ভাই সম্রাজ। 

ইউপি সদস্য ইমরান পলাতক থাকায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোন দেওয়া হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মিনহাজ-উল-ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, কয়েক জন পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম পরিহিত ও বাকিরা সিভিল পোশাকে ছিল। আটক ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।  

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সুমন দেব দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।