মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম, আটক ৩

নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে র্যাব-৪।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আহত জালাল উদ্দিন (৫৭) মানিকগঞ্জ সদরের হাটিপাড়া ইউনিয়নের পাওনান হাটিপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি হাটিপাড়া ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক সভাপতি।

আটককৃতরা হলেন, ওই উপজেলার বংখুরি এলাকার কাউসার দেওয়ান (২৫), চৌকিঘাটা গ্রামের তামিম হোসেন (২৩) ও ডালিম বিশ্বাস (৩৫)। তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ এবং গাড়ির ভেতর থেকে ২টি ছুরি, ৩টি লোহার রড় ও ৪টি হকিস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

র্যাব-৪ এর মানিকগঞ্জ অঞ্চলের লে. কমান্ডার আরিফ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য সকালে জালাল উদ্দিন, গর্জন সাড়েং ও ইব্রাহিম সাড়েং অটো রিকশায় করে মানিকগঞ্জে যাচ্ছিলেন। সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার সলন্ডী এলাকার ডায়না ইটভাটার কাছে কুদ্দুস, রাজিব, সজিব ও মজনুসহ ১৫-২০ জন ব্যক্তি তাদের অটো থামিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জালাল উদ্দিনের উপর হামলা চালায়। চাচাকে বাচাতে গিয়ে ভাতিজা ইব্রাহিমও আহত হয়। পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে সাদা রঙের একটি মাইক্রেবাসযোগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসি মিতরা এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে গাড়ি থামালে সবাই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় জনতার হাতে ৩ জন আটক হোন।

পরে এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের আটক ও অস্ত্রসহ গাড়ি জব্দ করে র্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার পর বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হবে। তবে কী কারণে এই হামলা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শহিদুল আলম রানা জানান, জালাল উদ্দিনের শারীরিক অবস্থা ভালো না। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাতিজা ইব্রাহিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।