মানিকগঞ্জে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ 

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এক মুক্তিযোদ্ধার বাবাকে হত্যার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের মামলা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে হত্যার শিকার আবদুস ছালাম মুন্সীর ছোট ছেলে মোশারফ হোসেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন।

অভিযুক্ত বরকত উল্লাহ (৮০) মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের কাংশা গ্রামের বাসিন্দা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আবদুস ছালাম মুন্সীর বড় ছেলে মোস্তাহের বিল্লাহ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এ কারণে স্থানীয় বরকত উল্লাহ, গোলাম আজম, আবদুল মান্নান ও বাদশা ফকির মোস্তাহের বিল্লাহকে হত্যার উদ্দেশ্যে খোঁজাখুজি করেন।

তাকে কোথাও না পেয়ে পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাহের বিল্লাহকে ধরিয়ে দিতে ১ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।

শেষে তাকে না পেয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে পাকবাহিনীর ৫ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাহেরের বাবা আবদুস ছালামকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যা করে ঢাকার সাভারের কর্ণপাড়া খালে ফেলে দেওয়া হয়।

খালের পাড়ে হত্যার শিকার আবদুস ছালামের রক্তমাখা পাঞ্জাবি পেলেও, বাবার মরদেহ পাননি বলে উল্লেখ করেন মামলার বাদি মোশারফ হোসেন।

মামলার বিষয়ে মোশারফ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বরকত উল্লাহর ছেলে এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায়, এতদিন তিনি মামলার করার সাহস পাননি। দীর্ঘদিন পরে হলেও বাবার হত্যার বিচার চান তিনি।

মামলার আইনজীবী সাখাওয়াৎ হোসাইন খান বলেন, 'বাদির বাবার হত্যার সঙ্গে ৪ জন রাজাকার জড়িত ছিলেন। তবে তাদের ৩ জন মারা যাওয়ায় শুধু বরকত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়েছেন।'

মামলা প্রসঙ্গে আদালত পুলিশের পরিদর্শক আনিছুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, '১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০(২) ধারায় এ মামলাটি বিচারক আমলে নিয়েছেন। মামলাটির বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিচারক সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।'