মামলা তুলে নিতে ২ বোনকে নির্যাতন, সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা
নাটোরের গুরুদাসপুরে মামলা প্রত্যাহার ও তালাকনামায় সই না করায় দুই বোনকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এসময় একজনের দুই হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
শুক্রবার রাতে গুরুদাসপুর উপজেলা পৌর সদরের খামারনাচকৈড় মহল্লায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত গৃহবধূ ইসরাত জাহান সুখি এবং তার ছোট বোন ইসরাত জাহান সুমি গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেছেন গৃহবধূ ইসরাত জাহান সুখি।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, চাচকৈড় পুরানপাড়ার মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে ১২ বছর আগে বিয়ে হয় সুখির। বিয়ের ৯ বছর পর আলমগীর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপরই আলমগীর এবং তার পরিবারের লোকজন সুখিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাকে তালাক দেয়। পরে সুখি আদালতে মামলা করলে আলমগীর তাকে পুনরায় বিয়ে করে এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। মামলা না তোলায় তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাবার বাড়ি এসে সুখি একটি মুদি দোকান দিয়ে জীবন যাপন করতে থাকেন।
গত শনিবার রাতে সুখির দোকানে এসে আলমগীর, তার দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা বেগম, সুখির বোনের স্বামী মো. সবুজ এবং এক নারী মিলে সুখিকে মারধর করে স্বর্ণের চেইন এবং নগদ ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
গৃহবধূ ইসরাত জাহান সুখি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য শুক্রবার রাতে জোর করে সই নেওয়ার চেষ্টা করে স্বামী আলমগীর এবং ছোট বোন সুমির স্বামী মো. সবুজ।
তালাকনামায় সই দিতে অস্বীকার করায় ছোট বোন সুমিকে মারধর করতে থাকে সবুজ। মারধর করতে নিষেধ করলে সবুজ, আলমগীর ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা মিলে সুখির দুই হাত ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।