মুক্তিপণ না পেয়ে শিশু হত্যা: রংপুরে ২ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ৮ বছর আগে অপহরণ ও হত্যা মামলায় ২ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পরান গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রাসেল মিয়া (১৯) এবং ওই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সালাউদ্দিন তালুকদার (২০)। এদের মধ্যে সালাউদ্দিন পলাতক।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে উপজেলার পরান গ্রামের আব্দুর রহিমের কন্যা শিশু রিয়া আক্তারকে অপহরণ করেন আসামিরা। রিয়া সে সময় বাড়ির সামনের রাস্তায় প্রতিবশী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। অপহরণের পরে আসামিরা মোবাইল ফোনে রিয়ার বাবার কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন আব্দুর রহিম। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে তিনি মামলা দায়ের করেন। পরের বছরের ১৯ জানুয়ারি রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাসেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ আব্দুল হক মিস্ত্রী নামে এক ব্যক্তির টয়লেট থেকে রিয়ার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। আদালতে জবানবন্দিতে সালাউদ্দিন জানান, অর্থের লোভে রিয়াকে অপহরণ করেছিলেন তারা। রিয়াকে প্রথমে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পরে রিয়ার মরদেহ টয়লেটে রাখা হয়েছিল বলে জানায় সূত্র।
তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২২ জুন ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান। এই মামলায় মোট ১৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। অপরাধে সম্পৃক্ততা না থাকলেও মামলায় আসামি করায় বাদীকে ভর্ৎসনা করেন আদালত।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।