মুন্সিগঞ্জে আ. লীগের ২ গ্রুপের দ্বন্দ্বে যুবক খুন
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ২ গ্রুপের দ্বন্দ্বের জের ধরে চালানো হামলায় এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মো. জুয়েল হোসেন দক্ষিন চরমশুরা ফকিরকান্দি গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিনি একজন মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী ও চটপটি বিক্রেতা ছিলেন। তবে অসুস্থতার কারণে গত কয়েকমাস ধরে বাড়িতেই ছিলেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক মো. নান্নু বেপারিও (৫৫) একই গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের আত্মীয় ও পুলিশের ভাষ্য, আজ ভোরে নামাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে হামলার শিকার হন জুয়েল।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হারুন ফকির ও সাধারণ সম্পাদক মন্টু দেওয়ান গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলছিল। এখন আলু তোলার মৌসুমে যা চরমে ওঠে।
ওসি বলেন, 'এর জের ধরেই হারুন ফকির গ্রুপের জুয়েল হোসেন খুন হয়েছেন।' তিনি আরও জানান, জুয়েলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তার একটি পায়ের হাটুতে গুলির চিহ্নও পাওয়া গেছে। জুয়েলের মরদেহ উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নান্নু বেপারিকে আটক করার কথা জানিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, 'অন্যদের আটক করতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে।'
নিহত জুয়েলের বাবা মো. হাফিজ উদ্দিন তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অবসরে যান। ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের সঙ্গে কারুর কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। আমার ভাতিজা হারুন ফকিরের সঙ্গে ছিল। তার জের ধরেই আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।'
নিহতের ভাই মো. রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, 'মন্টু দেওয়ান ও তার গ্রুপের লোকজন জমিতে লাগানো আলু জোর করে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলেও তারা আমাদের হুমকি দেয়। যার জের ধরেই ভোররাতে পিটিয়ে ও গুলি করে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়।'
মন্টু দেওয়ানের সঙ্গে চলা দ্বন্দ্বের কথা জানিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি হারুন ফকির বলেন, 'মন্টু দেওয়ানের লোকজন গতকাল বিকেলে স্থানীয় বাজারে এসে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এ জন্য আমরা সবাই বাড়িতে অবস্থান করি।'
হারুন ফকিরের ভাষ্য, জুয়েলকে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে ককটেল ফাটানোর পাশাপাশি কিছু বাড়িঘরও ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মন্টু দেওয়ান বলেন, 'মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। কারো সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কারো জমি থেকে জোর করে আলু তোলার চেষ্টাও করা হয়নি। নিহতের আত্মীয় হারুন ফকিরই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।'