মুন্সিগঞ্জে নিখোঁজ ২ তরুণের মরদেহ উদ্ধার
মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলায় ধলেশ্বরী নদী থেকে ২ তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে পৃথক জায়গা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুজন হলেন—আরাফাত ওরফে আলমগীর ও মো. রিয়াম। আরাফাতের বাড়ি সদর উপজেলার গোসাঁইবাগ এলাকায়। তার বাবার নাম আলাউদ্দিন। রিয়ামের পরিবার মুন্সিগঞ্জের মাস্তানবাজার এলাকায় বসবাস করে। তার বাবার নাম আবুল কালাম।
এদিন সকাল ৯টায় মীরকাদিম পৌর এলাকার কাঠপট্টি লঞ্চঘাটের পাশে ধলেশ্বরী নদী থেকে রিয়ামের মরদেহ এবং সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াগাঁও এলাকার ধলেশ্বরী নদী থেকে আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রবিউল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে কল মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। আমরা জানতে পেরেছি, গত ২ দিন যাবত তারা নিখোঁজ ছিল। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তবে তাদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্থানীয় ৩ বখাটে তরুণ তাদের বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তারাই নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর পরে নির্যাতন করে আরাফাত ও রিয়ামকে নদীতে ফেলে দেয়।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ৫ জন তরুণ নেশা জাতীয় দ্রব্য খেয়ে নদীতে গোসল করতে নেমেছিল। তারা জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল। গতকাল রুবেল ও রনি নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
আরাফাতের মামা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, গত সোমবার দুপুরে অপূর্ব ও তার ভাই রনি এবং রুবেল আমার ভাগিনাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কমলাঘাট এলাকায় নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ায়, এরপর আমার ভাগিনাকে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়। অপূর্বের সঙ্গে আরাফাতের ঝগড়া হয়েছিল। তখন সে আরাফাতকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। আমার ভাগিনা হত্যার বিচার চাই।
রিয়ামের ভাই মো. হাসান অভিযোগ করেন, গত সোমবার দুপুরে ৪ বন্ধু রিয়ামকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর বিকেলে রুবেল ও অপূর্ব এসে বলেছে রিয়াম ফোন ও নগদ ৭০০ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। এরপর খোঁজ করেও রিয়ামকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্বের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে।