মুন্সিগঞ্জে যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর

নিজস্ব সংবাদদাতা, মুন্সিগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জের দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকায় চোর সন্দেহে এক যুবককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

সোমবার সকালে মুরাদ হাসান রনি (২৭) নামের ওই যুবককে স্থানীয় কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন লাঠি দিয়ে মারধর করেন। ভিডিওতে তাকে লাথি মারতেও দেখা যায়।

বাড়ি থেকে সোনার গয়না ও টাকা চুরির ঘটনায় রনিকে সন্দেহ করে প্রতিবেশী মনির হোসেন। এরপর কাউন্সিলরকে নিয়ে রনিকে বাসা থেকে বের করে মারধর করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় প্রতিবেশীদের সবার সামনে হাত ও পা বেঁধে কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন তাকে লাঠি দিয়ে শরীরে আঘাত করেন। এরপর পা দিয়ে লাথি দেন। তাকে চুরির কথা স্বীকার করাতে মারধর করতে দেখা যায়।

মুরাদ ওই এলাকার মৃত মোরশেদ মিয়ার ছেলে। তিনি আসবাবপত্রে রঙয়ের কাজ করেন। তার মা প্রবাসী।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এই ঘটনায় কাউন্সিলর আওলাদ হোসেনসহ তিন জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়। এর পর থেকেই পলাতক রয়েছেন আওলাদ হোসেন। মঙ্গলবার ভোরে অপর দুই আসামি কালা চান (৫০) ও তার ভাই মনির হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মুরাদ হাসান রনি জানান, সোমবার সকাল ৯টায় কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন, প্রতিবেশী মনির হোসেন, কালা চান বাসায় এসে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। মনিরের বাড়ির উঠোনে হাত-পা বেঁধে চুরির অপবাদ দিয়ে ১৫ মিনিট ধরে মারধর করা হয়। তারপর আমাকে সেখানেই বেঁধে রাখা হয়। আমার ভাই মারুফ থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ এসে উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন রাতে ফেসবুকে আমাকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর মামলা করা হয়।

রনির ছোট ভাই মো. মারুফ হোসেন বলেন, ভাইকে মারধর করতে দেখে ৯৯৯ এ কল দিয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় যাই। তখন দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার লিখিত অভিযোগ করতে বলে। অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. রাজীব খান জানান, ভিকটিম রনি নিজেই মারধরের মামলা করেছেন। অভিযুক্ত দুই জনকে পৌরসভার এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত কাউন্সিলর মো. আওলাদ হোসেন পলাতক আছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।