সিনহা হত্যা মামলা: ষষ্ঠ দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার ষষ্ঠ দফায় ৩ দিনব্যাপী সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শুরু হয়েছে আজ সোমবার সকালে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে চলছে আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচার।

পঞ্চম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ১২ অক্টোবর জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল ষষ্ঠ দফায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিন ধার্য করেন ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য প্রদানের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ আদালতের সমন পাওয়া ১৬ জন সাক্ষী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৫ দফায় মোট ৩৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের সবারই মামলার অভিযোগপত্রের তালিকায় নাম রয়েছে। ৩৪ জনের মধ্যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন ৯ জন।

আজ সাক্ষ্য গ্রহণকালে মামলার ১৫ জন আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয় সকাল সাড়ে ৯টায়। তাদের উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

আসামিরা হলেন—বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও মো. আয়াজ।

গত বছরের ৫ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়। গত ২৩ আগস্ট সকালে মামলার বাদী মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এই হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

৪ মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে আসামি করে এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন আদালতে। অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে ৮৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরস্থ এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।