ময়নাতদন্ত শেষে কুয়েট শিক্ষকের মরদেহ আবার দাফন

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ২ দিন পর আবার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রাম কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ দাফন সম্পন্ন হয়।

খুলনা খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সেসময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

গত বুধবার সকালে মরদেহ কবর থেকে তুলে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ওসি প্রবীর বলেন, 'মরদেহ ড. সেলিমের বাবা শুকুর আলী এবং ২ চাচাতো ভাই শামিম ও সোহেলের কাছে শনাক্তপূর্বক বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ দাফন করা হয়।'

গত ৩০ নভেম্বর কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক (ইইই) ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিম হোসেন (৩৮) ক্যাম্পাসের পাশে ভাড়া বাসায় মারা যান।

তিনি একই সঙ্গে লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ ছিলেন।

গত ১ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত ছাড়া তার মরদেহ কুমারখালীর বাঁশগ্রামে দাফন করা হয়।

সন্দেহ করা হয় বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তার কক্ষে নিয়ে গিয়ে তার ওপর মানসিক নিপীড়ন চালায়।

এ ঘটনায় খান জাহান আলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

গত ৫ ডিসেম্বর কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আনিচুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে 'অস্বাভাবিক' হিসেবে উল্লেখ করে মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য মরদেহ উত্তোলন করে তা তদন্তের জন্য অনুরোধ করে খুলনা জেলা পুলিশকে চিঠি দেন।

পরে খুলনার খানজাহান আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহরিয়ার হাসান মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে খুলনা জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করে।

এরপর বুধবার কুষ্টিয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ সাদাত মরদেহ তুলে খানজাহান আলী থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ দিকে দ্বিতীয় দফা দাফনের সময়ও ড. সেলিমের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

সেলিমের বাবা শুকুর আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মনে করি, আমার সন্তানের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত বিষয়টি উঠে আসতো। কিন্তু, এখানে তা হচ্ছে কি না বুঝতে পারছি না।'

কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আনিচুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের একাধিক সংস্থার মাধ্যমে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চায় সঠিক তথ্য উঠে আসুক।'