যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে পালানো ৩ কিশোরের সন্ধান মেলেনি ৪ দিনেও
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া তিন বন্দি কিশোরকে গত চার দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। প্রশাসন বলছে, তাদের দ্রুত উদ্ধার করতে পুলিশ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।
গত শনিবারের ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন এক সপ্তাহের ছুটিতে গেছেন। এ মুহূর্তে তার ছুটি নেওয়ার কারণ সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার গভীর রাতে বিভিন্ন দাবিতে কেন্দ্রের বন্দিদের ভাঙচুরের ঘটনার মধ্যে এই তিন জন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রোববার বিকালে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
পেট পুড়ে খাবার ও খাদ্যের মান বাড়ানোর দাবিতে শনিবার গভীর রাতে কেন্দ্রের বন্দিরা বিক্ষোভ-ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে।
পালিয়ে যাওয়া বন্দিরা হলো, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম হাতি গ্রামের মৃত আইউব আলীর ছেলে বাপ্পারাজ (১৫), বরগুনার আমতলী থানার উত্তর গদখালি গ্রামের মোস্তফা কাজীর ছেলে শাকিল (১২) এবং নাটোরের কান্দিভিটা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহান (১৬)।
জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলামের হস্তক্ষেপে ওইদিন রাতেই পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন ঘটনার পরের দিন থেকে ছুটিতে গেছেন। পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের আটক না উদ্ধার করতে হবে। কেন্দ্রের নিয়মানুযায়ী পালিয়ে যাওয়া শিশুদের কোনো শাস্তির বিধান নেই। কারণ আইনে বলা হয়েছে, শিশুরা বন্দি থাকতে চায় না। তারা সবসময় পালানোর চেষ্টা করবে।’
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া তিন কিশোরকে উদ্ধার করা হবে। তাদের পরিবারের লোকজন তাদেরকে কেন্দ্রে ফিরিয়ে দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে এর আগেও অনেক বন্দি কিশোর কৌশলে পালিয়ে গিয়েছিল। প্রত্যেককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই তিন জনকেও ফিরিয়ে আনা হবে। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।’