যিনি মহাসড়কের জমি কেনা-বেচা করতেন
জালিয়াতি করে মহাসড়কের জমি কিনে তা বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থাকা মো. গোলাম ফারুক (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে এক সহযোগীসহ ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, সম্প্রতি মেরুল বাড্ডা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। ফারুক ও তার সহযোগী ফিরোজ আল মামুনও (৩৫) ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি।
র্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা বাড্ডা এলাকায় ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, প্রতারণার ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি জালিয়াতির মাধ্যমে মহাসড়কের জমি হাতিয়ে নেওয়া, তা বিক্রি করে ও ব্যাংকে বন্ধক রেখে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গোলাম ফারুক গাড়ির ব্যবসা করতেন। এ জন্য তিনি একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে ৭ কোটি টাকা ঋণ নেন। পরে সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক তাকে সম্পত্তি বন্ধক রাখার জন্য চাপ দেয়। এ সময় ফারুক ভুয়া দলিল করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর অংশের একটি সরকারি জমি নিজের স্ত্রীর নামে করে নেন। সেই জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে এর বিপরীতে আবার ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেন তিনি।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ব্যাংকটি ঋণের অর্থ আদায়ে বন্ধকি জমি নিলামে বিক্রির নোটিশ জারি করলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে।
র্যাব জানায়, গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হত্যাচেষ্টাসহ নানা অভিযোগে মোট ৮টি মামলা আছে। এ ছাড়া তার তার অন্যতম সহযোগী ফিরোজ আল মামুনের বিরুদ্ধে উত্তরা এলাকার কয়েকটি কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।