যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ, স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালালেন স্বামী

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

গাজীপুরে স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শ্বশুর রামনাথ রাজভরকে (৫৫) আটক করেছে পুলিশ। 

নিহত বর্ষা রাণী রাজভর (১৮) গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম বিলাশপুর এলাকার বাদল রাজভরের মেয়ে এবং গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তার স্বামী দীপ্ত রাজভর (২৪) গাজীপুর মহানগরের উত্তর বিলাশপুর এলাকার রামনাথ রাজভরের (৫৫) ছেলে।

নিহতের মা লক্ষী নারয়ন রাজভর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বর্ষা ও দীপ্ত গত বছরের মার্চে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর বাড়ির লোকজন মেয়েকে আমাদের বাড়িতে তেমন আসতে দিতো না। এসএসসি পাশ করার পর এ বছর বর্ষাকে গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। বর্ষা আরো লেখাপড়া করুক তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন সেটি চায়নি। বিভিন্ন সময় স্বামী-শ্বাশুড়িসহ যৌতুকের জন্য বর্ষাকে চাপ দিতো। সর্বশেষ তারা দীপ্তর দাদির মাধ্যমে বর্ষার কাছে ৫ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার যৌতুক দাবি করেছিল। এসব নিয়ে তাদের সংসারে বিভিন্ন সময় কলহ হতো।''

'গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। দীপ্তর বাবা রামনাথ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফোন করে আমাদের জানান বর্ষা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তাকে দেখার জন্য হাসপাতালে যেতে বলেন তিনি। রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। এসময় স্বামী দ্বীপ্ত কাছে ছিল না,' বলেন তিনি।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মৃত অবস্থায় গত সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে দীপ্ত হাসপাতালে বর্ষার মরদেহ রেখে সেখান থেকে চলে যায়। 

জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন বলেন, 'বর্ষার কপালে ও গলার নিচে কালো দাগ রয়েছে। দীপ্তর বাবা রাম নাথকে সোমবার রাতেই হাসপাতাল চত্বর থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। স্বামী-শ্বাশুরিসহ পরিবারের লোকজন ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়েছে।'