রিমান্ডে নির্যাতিত আসামির জবানবন্দি গ্রহণ: বিচারককে হাইকোর্টের তলব
রিমান্ডে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হত্যা মামলার আসামি মো. ফরহাদ হোসেন ওরফে খলুর জবানবন্দি রেকর্ডের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় চাঁদপুরের সাবেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট মো. নূরে আলমকে তলব করেছেন হাইকোর্ট বিভাগ।
আগামী ২২ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির হয়ে আবারও ব্যাখ্যা দিতে হবে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজিবের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌধুরী আলমকেও একই দিনে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন দিয়েছেন।
ফরহাদের আইনজীবী রিমি নাহরীন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চাঁদপুরের সাবেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বর্তমানে বাগেরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে মৌখিকভাবে আশ্বাস দেওয়ায় রিমান্ডে ফরহাদকে নির্যাতনের বিষয়ে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
লিখিত ব্যাখ্যায় নূরে আলম বলেছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তিনি ভুল করেছেন। তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না মনে করেননি আদালত—বলেন রিমি।
ফরহাদ হোসেনের জামিন আবদনের শুনানি নিয়ে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালত ফরহাদের জামিনের মেয়াদ আরও ১ বছর বাড়িয়েছেন। ফরহাদের পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান শুনানি করেন।
চলতি বছরের ১৪ মার্চ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ফরহাদের জবানবন্দি রেকর্ডের বিষয়ে রুল দেন। হাইকোর্ট নূরে আলমকে ১ মাসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেন। আদালত জানতে চান, ওই অবস্থায় তিনি কেন জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।
পাশাপাশি আদালত ২০১৯ সালে চাঁদপুরে মো. সোহেল রানা হত্যা মামলায় আদালত ফরহাদের জামিন মঞ্জুর করেন এবং জেলা শিশু আদালতকে ফরহাদের প্রকৃত বয়স ঘোষণা করতে বলেন।
ফরহাদের পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আইনজীবী রিমি নাহরীন ডেইলি স্টারকে আরও বলেন, মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে চাঁদপুরের মতলবের পেয়ারীখোলা গ্রামে মোবাইল ফোন নিয়ে দ্বন্দ্বে ৩ আসামি ফরহাদ হোসেন খলু, মেহেদী ও রুবেল ২০১৯ সালের ১৮ আগস্ট সোহেল রানাকে হত্যা করে।
ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ফরহাদ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরে আলমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে নূরে আলম উল্লেখ করেন, আসামি ফরহাদের দুই কব্জির নিচে কালো দাগ দেখা গেছে। তার হাত বেঁধে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়েছে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে তাকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী ডেইলি স্টারকে বলেন, অভিযোগপত্রে পুলিশ বলেছে, ফরহাদের বয়স ১৯ বছর। কিন্তু চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলেছেন, যখন এই ঘটনা ঘটে তখন ফরহাদের বয়স ছিল ১৬ বছর। আসামির জবানবন্দি অবশ্যই স্বপ্রণোদিত এবং সত্য হতে হবে। যদি কোনো আসামি নির্যাতনের পরে জবানবন্দি দিতে আসে, সেটা রেকর্ড করার নিয়ম নেই। অভিযুক্ত যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয়, তাহলে তার বিচারকার্য শিশু আদালতে চলবে।