শহীদুল আলমের রিট আবেদন প্রত্যাখ্যান হাইকোর্টের
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের দায়ের করা রিট আবেদন আজ সোমবার প্রত্যাখ্যান করেছেন হাইকোর্ট। এই আইনের মামলায় ১০৭ দিন কারাগারে ছিলেন তিনি।
ডেপুটি অটনি জেনারেল তুষার কান্তি রায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আদালত জানিয়েছেন, কোনো ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান , তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে এই মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু করার কোনো আইনি বাধা নেই।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী সারা হোসেন জানান, তার মক্কেল হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করবেন।
এই আইনজীবী বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার বিবেচনা করা উচিত যে তিনি বিলুপ্ত আইনের অধীনে দায়ের করা মামলার তদন্ত করবেন কিনা।
২০১৯ সালের ১৪ মার্চ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গঠনের মাধ্যমে আইন বিলুপ্ত হওয়ার পরেও কেন ৫৭ ধারায় দায়ের করা মামলাটি অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।
২০১৯ সালের ৩ মার্চ শহীদুল আলম এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছিলেন।
আবেদনে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন শহীদুল আলম। তিনি দাবি করেছিলেন, এটি তার 'মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে' এবং 'এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করা' করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৫ আগস্ট দৃক গ্যালারি এবং সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলমকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভের সময় ধানমন্ডির বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করে এবং পরের দিন তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়।
২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর হাইকোর্ট শহীদুলের জামিন মঞ্জুর করেন এবং পরের দিন তাকে ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।