শিক্ষক লাঞ্ছিত: ৩ দিন পর ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা নিল পুলিশ
শরীয়তপুরে কলেজ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার ৩ দিন পর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারী (৩৭) ও সেক্রেটারি রাসেল জমাদ্দারের (২৮) বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার সকালে পালং মডেল থানা অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে রুজু করেন।
সকালে শরীয়তপুরের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদ বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।
গত বুধবার বিকেলে শরীয়তপুরের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের একটি খাবারের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ায় কলেজের প্রভাষক বি এম সোহেলকে লাথি ও কিল ঘুষি মারে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারী।
এ ঘটনায় গতরাত পর্যন্ত থানায় অপেক্ষার পরও পুলিশ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করেন শরীয়তপুরের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশীদ।
এনিয়ে গতকাল দ্য ডেইলি স্টারে 'শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তৎপর হয় প্রশাসন।
শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকতার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা কলেজ শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় আজ সকালে পালং মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলার বাদী হয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ।
তিনি বলেন, 'মামলায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারী (৩৭) এবং কলেজ শাখার সেক্রেটারি রাসেল জমাদ্দার (২৮)কে মূল আসামি এবং অজ্ঞাত ২০/২৫ কে আসামি করে এ মামলাটি করা হয়। যেহেতু এখন মামলা হয়েছে আমরা খুব শিগগিরই দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।'
এদিকে কলেজের পক্ষ থেকে শিক্ষক লাঞ্ছনার বিষয়ে ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানতে চাইলে মামলা দায়ের ও তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ দ্য ডেইলি স্টার কে বলেন, ৩০ মার্চ কলেজ শাখা ছাত্রলীগ কর্মীদের শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায়, ঘটনার দিন রাতেই মামলা দায়েরের জন্য থানায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগ দায়েরের পর, আজকে সকালে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবু রুশো মোহাম্মদ তোয়াব হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনা তদন্ত করে কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, কলেজের উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাতে বলা হয়েছে।
ঘটনার সাথে অভিযুক্ত ছাত্রদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে কিনা জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অভিযুক্ত ছাত্রদের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। আমরা অভিযুক্ত ছাত্রদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। আমরা শিগগিরই সেই তথ্যগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেব।
অন্যদিকে, শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় সোহাগ ব্যাপারীসহ জড়িতদের শাস্তি ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ করেছে কলেজের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশের পর শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের কাছে রাষ্ট্রপতির বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
