সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার ১ আসামির মৃত্যু, কিশোরীর দুই ভাই আটক

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার এক আসামি মারা গেছেন। আজ বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আসামি রকি (২০) পেশায় বাসচালক ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় ওই কিশোরীর ২ ভাইকে আটক করেছে পুলিশ।

বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মহসীন দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'গত ১৮ মার্চ রাত ৯টায় রকি ও তার চাচাতো ভাই আলমগীর এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পরদিন কিশোরী বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন।'

আসামি আলমগীর ও রকি পলাতক ছিলেন বলে জানান তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন জানান, ওই কিশোরীর ২ ভাই ২২ মার্চ বিকেলে শিমরাইল এলাকা থেকে রকিকে আটক করার পর তারা রকিকে আহতাবস্থায় স্থানীয় মর্ডান হাসপাতালে ভর্তি করে।

একই সময়ে তারা ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ফোনে বিষয়টি জানায়।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা রকিকে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনেন এবং বুধবার সকালে রকির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত হওয়ার বিষয়ে পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসীন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কিশোরীর ২ ভাই পুলিশকে জানিয়েছে যে আটকের সময় রকি বাস থেকে লাফ দিয়ে পালাতে চেষ্টা করলে অন্য গাড়ির চাপায় সে আহত হয়। আমরা দুই ভাইকে আটক করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।'

এদিকে, রকির মৃত্যুর খবর জানার পর পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে।

এ সময় পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের বলেন, 'কিশোরীর দুই ভাইয়ের মারধরে রকি আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যায়।'

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অভিযুক্ত কিশোরীর দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া ধর্ষণ মামলায় অপর আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'