সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ২ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে আরেক মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ 

নারায়ণগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমসহ দুই জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক সৈকত মাহমুদ বাদী হয়ে শ্রম আদালতে এ মামলা করেন।

মামলার অপর আসামি হলেন--সজীব গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ।

এর আগে, গত ৩০ জুন শ্রম আইনের ৯টি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে শ্রম পরিদর্শক নেছার উদ্দিন বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছিলেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জের উপমহাপরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শ্রম আইনের ৮০ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩০৭ ধারায় কারখানার মালিক আবুল হাসেম ও উপমহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’

‘৮০ ধারায় বলা আছে, যদি কোন প্রতিষ্ঠানে কোন দুর্ঘটনা ঘটে, প্রাণহানি বা শারীরিক জখম হয় অথবা যদি কোন প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি ঘটে তাহলে মালিক বা উপমহাপরিদর্শককে পরবর্তী দুই কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশ দিয়ে অবহিত করতে হবে,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গত ৩০ জুন আমরা আরেকটি মামলা করেছি। করোনা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কারখানায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ওই মামলায় অভিযোগ আনা হয়। কারখানার পূর্ব দিকের ছয় তলার কক্ষে নির্মল বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা, পরিদর্শক কর্তৃক কাজের সময়সূচীর নোটিশ অনুমোদন না করা, কার্যকর সেফটি কমিটি না থাকা, যন্ত্রপাতি স্থাপনের ক্ষেত্রে দেয়াল থেকে দেয়ালের দূরত্ব এক মিটার না রাখা, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বর্তমান কারখানার মেশিন আউট-লেট প্ল্যানের সামঞ্জস্য না থাকা, বর্তমান শ্রমিক সংখ্যানুপাতে লাইসেন্স ক্যাটাগরি সঠিক না থাকা এবং ভবনের ভেতরে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়গুলো ওই মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মামলাটি আদালতে বিচারাধীন আছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারখানার মালিকের নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য খরচ দিতে বলা হয়েছে। তারা যদি সেটা না করে, তাদের বিরুদ্ধে আরও মামলা করা হবে।’

সৌমেন বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত আহত ২২ জনকে ৫০ হাজার করে ১১ লাখ টাকা ও নিহত তিন জনকে ছয় লাখ টাকা দিয়েছি। নিহত অন্যদের পরিচয় শনাক্ত হলে তাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার ছয় তলা ভবনের নিচ তলার একটি ফ্লোরে হঠাৎ করে আগুন লাগে। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক ভবন থেকে লাফিয়ে পরে তিন জন মারা যায় এবং ১০ জন আহত হয়। পরদিন শুক্রবার বিকেলে আগুন নিভিয়ে ফেলার পর ৪৮ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নিরাপত্তা না থাকাসহ বিভিন্ন অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা করে। মামলায় কারখানার মালিক মো. আবুল হাসেমসহ তার চার ছেলে এবং ডিজিএম, এজিএম ও প্রকৌশলীসহ আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুই জন জামিনে মুক্ত হলেও, কারখানার মালিক আবুল হাসেম সহ ছয় জন এখন কারাগারে আছেন।