সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই না করে মৃত্যুদণ্ডের রায়, হাইকোর্টের অসন্তোষ
সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করে জোড়া খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার কারণে নোয়াখালীর নিম্ন আদালতের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
আজ সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের বেঞ্চ এ মামলায় রায় ঘোষণার সময় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
২০০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর নাপিতের পুল এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ফিরোজ কবির মিরন ও তার কর্মচারী সুমন পালকে ডাকাতি, অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।
২০১৬ সালের ২৩ মার্চ নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আ ন ম মোর্শেদ খান এ মামলায় ১২ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং আরও ১০ আসামিকে খালাস দেন।
আজ সোমবার নোয়াখালীর আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে ৮ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
তবে হাইকোর্ট ৩ আসামি কামরুল হাসান ওরফে সোহাগ, রাশেদ ও কামাল হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন এবং আবদুস সবুর নামে এক আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, সঠিকভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই না করে নিম্ন আদালতের এভাবে রায় দেওয়া উচিত হয়নি।
এ বিষয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেন, 'নিম্ন আদালতের উচিত ছিল সাক্ষ্য ও আইনগুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা।'
ডেথ রেফারেন্স (ট্রায়াল কোর্টের নথি) এবং নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দোষী সাব্যস্ত হওয়া আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে বেঞ্চ এই রায় দেন।
তবে, যে পর্যবেক্ষণ ও পটভূমিতে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন তার সম্পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ না করায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা, আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মোহাদ্দেসুল ইসলাম টুটুল এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহিন আহমেদ খান।