‘সাজানো বয়ান’ নথিভুক্ত করার অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
লালমনিরহাটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় সাক্ষীদের সঙ্গে কথা না বলে সাজানো বয়ান নথিভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম সরকারের বিরুদ্ধে।
তিনি লালমনিরহাট সদর থানায় দায়িত্বরত।
মামলার ৩ জন সাক্ষী পুলিশ সুপারের কাছে নূর আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ সুত্র জানায়, গত বছরের ৩১ আগস্ট স্বামী সৈয়দ সুফি মো. তাহেরুল ইসলাম, শাশুড়ি তহমিনা বেগম ও ননদের স্বামী লিটন সরকারের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তাহমিনা আফরোজ। মামলায় বলা হয়, ২০২০ সালে লালমনিরহাট শহরের আদর্শপাড়া এলাকার তাহেরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় তাহমিনার। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
মামলাটি তদন্ত করে গত ৩১ জানুয়ারি চার্জশিট দেন এসআই নুর আলম সরকার। চার্জশিটে ৬ জন সাক্ষীর বয়ানের কপি সংযুক্ত করা হয়।
মামলার ৬ সাক্ষীর মধ্যে তিন জন- শাহীনা বেগম, রুমেল সরকার ও আইয়ুব আলী বসুনিয়া গত ১৪ মার্চ পুলিশ সুপারের কাছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অপর তিন স্বাক্ষী ফয়সাল আহমেদ শিরিনা বেগম ও ফারুক হোসেন এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।
মামলার স্বাক্ষী আইয়ুব আলী বসুনিয়া বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর আলম সরকারের সাথে দেখা হয়েছিল কিন্তু মামলার ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। আমার সাথে কথা না বলেই আমার বয়ান তৈরি করে চার্জশিটে সংযুক্ত করা হয়েছে।'
এ নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই নুর আলম সরকার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'স্বাক্ষীদের সঙ্গে যথাযথ নিয়মে কথা বলে তাদের বয়ান ১৬১ ধারায় অনুযায়ী নথিভুক্ত করা হয়েছে।'
তিনি দাবি করেন, মামলার অভিযুক্ত আসামির চাপে সাক্ষীরা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহা আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, মামলাটি যথাযথ তদন্ত করে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষীদের অভিযোগ সঠিক নয়।
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মারুফা জামাল ডেইলি স্টারকে বলেন, স্বাক্ষীর সাথে কথা না বলে তাদের বয়ান নথিভুক্ত করার কোন সুযোগ নেই। যেহেতু স্বাক্ষীরা লিখিত অভিযোগ করেছেন তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'আমি স্বাক্ষীদের সাথে কথা বলবো। যদি তাদের অভিযোগ সঠিক হয় তাহলে অভিযুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'