সাজুর পিস্তল দেখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন মনসুর: পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে বন্ধু সাজুর বাসায় আড্ডা দিচ্ছিলেন মুসা ও মনসুর। বাসায় একটি হটপটের ব্যাগে ছোট একটি পিস্তল দেখতে পান মুসা। তার হাত থেকে মনসুর পিস্তলটি নিয়ে দেখতে থাকেন। এক পর্যায়ে পিস্তলের ট্রিগারে চাপ লেগে মনসুর বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হন।

২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বরের ওই ঘটনার পর মনসুরকে অপর ২ বন্ধু চট্টগ্রামে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তারা জানায়, মনসুরের চোখে পাথরের আঘাত লেগেছে।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মনসুর মারা গেলে, তাকে রেখে পালিয়ে যায় দুই বন্ধু।

এ ঘটনার পর নগরীর হালিশহর থানায় একটি মামলা হয়। মামলার ৬ বছর পর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট।

মামলায় চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর সদর থানার পৌরসভার অধ্যাপক পাড়ার মো. মুসা হোসাইন (৪৭) ও একই জেলার ফরিদগঞ্জ থানার সুইবিদপুর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হাবিবুর রহমান সাজুকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা এসব বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, '২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে মুসা ও সাজুর ফোন পেয়ে মনসুর আগ্রাবাদ টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে যান। সাজুর কক্ষে একটি হটপটের ব্যাগ দেখে মনসুরের পছন্দ হয়। ব্যাগ থেকে সাজু একটি পিস্তল বের করেন। পিস্তলটি দেখার সময় ট্রিগারে চাপ লেগে মনসুরের চোখে গুলি লাগলেও, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসককে মুসা ও সাজু জানিয়েছিল যে মনসুরের চোখে পাথরের আঘাত লেগেছে।'

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনসুরের মৃত্যু হওয়ার পর থেকে মুসা ও সাজু পলাতক ছিলেন।

ঘটনার ৬ মাস পরে মনসুরের স্ত্রী হালিশহর থানায় একটি মামলা করেন। মুসা কিছুদিন ভারতে আত্মগোপন করেন। পরে আবার দেশে চলে আসেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে আব্দুর রহমান নামে পরিচিত হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, সাজু একসময় আগ্রাবাদে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তখন অস্ত্রটি তিনি তার বাসায় রাখে। বিষয়টি তিনি ভুলে গেলেও ঘটনার দিনই পিস্তলটি বের হয়।

'আমরা অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি,' বলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃত ২ জনকে আদালতে হাজির করা হলে, মুসা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং সাজুকে আদালত ২ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।