সাবেক স্ত্রীকে হত্যা করতে গিয়ে অন্য নারীকে হত্যা

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সাবেক স্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করতে গিয়ে আয়েশা সিদ্দিকি (২২) নামে অন্য এক নারীকে হত্যা করেছেন ট্রাকচালক সেকুল মিয়া (৩০)। আজ শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিং এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সেকুল মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রীর চার বছর আগে বিচ্ছেদ হয়। তার সাবেক স্ত্রী আবারও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সেকুলের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন। কিন্তু এক মাস আগে তার সাবেক স্ত্রী আরেক জনকে বিয়ে করলে ক্ষুব্ধ হন সেকুল। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ ভোরে মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় যান সেকুল। সেখানে তার সাবেক স্ত্রী বোরকা পরে একটি রিকশায় উঠলে সেকুল তার পিছু নেন। একপর্যায়ে রিকশার গতিরোধ করে কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে বোরকা পরা এক নারীকে একের পর এক আঘাত করেন সেকুল। এরপর ওই নারী রিকশা থেকে নিচে পড়ে গেলে দেখতে পান তার সাবেক স্ত্রী তখন পাশেই অন্য একটি রিকশায় বসে আছেন।

এরপর আয়েশা সিদ্দিকিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেল ৪টায় মারা যান তিনি। 

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, 'ভোরে নবোদয় হাউজিং এলাকায় তিনি সিজারের (কাঁচি) আঘাতে আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। তার পিঠে ৩টি আঘাত ছিল। দুপুড়ে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান চিকিৎসকরা। অপারেশন শেষে পোস্ট অপারেটিভে নেওয়া হলে সেখানে মারা যান আয়েশা।'

আহত আয়েশার বোন খালেদা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তাদের বাসা আদাবর নবীনগর হাউজিং এলাকায়। আয়েশা মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে সাইনেস্ট গ্রুপ গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তার স্বামী রুবেল ঢাকা উদ্যানে ইলেক্ট্রিকের কাজ করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায়।

খালেদা বলেন, 'আজ আয়েশার গার্মেন্টস খোলা ছিল। স্বামীও কাজে ছিলেন। ভোরে বাসায় রান্না করে স্বামীকে ভাত দিয়ে গার্মেন্টসে যাওয়ার কথা ছিল। পরে জানতে পারি কে বা কারা রিকশা থেকে নামিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে তার চিৎকারে এলাকার কয়েকজন ছুটে আসলে একজন পালিয়ে গেলেও আরেকজনকে ধরে ফেলে। পরে খবর পেয়ে আয়েশাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।' 

আহত অবস্থায় আয়েশা জানিয়েছিলেন, তিনি বাসার সামনে থেকে রিকশা নিয়ে ঢাকা উদ্যান হয়ে মোহাম্মপুর বেড়িবাঁধে গার্মেন্টে যাচ্ছিলেন। পথে নবোদয় হাউজিং বাজারের কাছে আসলে দুই ব্যক্তি রিকশা থেকে নামিয়ে একজন ধরে রাখে আরেকজন সিজার (কাঁচি) দিয়ে পেছনে আঘাত করে। পরে চিৎকার করলে এলাকার লোকজন এসে একজনকে ধরে ফেলে আরেকজন পালিয়ে যায়। তাদের তিনি চিনতে পারেননি বলেও জানান আয়েশা। 

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভোরে নবোদয় হাউজিং এলাকায় দুই ব্যক্তি এক গার্মেন্ট কর্মীকে সিজার দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাবার সময় সেকুল নামে একজনকে এলাকার লোকজন ধরে থানায় সোর্পদ করে। সে একজন ট্রাক ড্রাইভার। আটক সেপুল জানিয়েছে, নিজের বৌয়ের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। ঘটনার সময় মৃত নারী ও তার বউ বোরকা পরে যাচ্ছিলেন। নিজের বউ মনে করে ওই গার্মেন্টকর্মীকে আঘাত করে।'

ওসি আরও বলেন, 'আহত গার্মেন্টকর্মী বিকেলে হাসপাতালে মারা গেছেন। স্বজনরাও হাসপাতালে আছেন। স্বজনরা থানায় আসলে হত্যা মামলা করা হবে। তার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।'