সাভারে নিখোঁজ কলেজ অধ্যক্ষের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
সাভার আশুলিয়ায় নিখোঁজের ২৭ দিন পর সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
এ ঘটনায় তার দুজন ব্যবসায়িক অংশীদারসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন—সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অংশীদার রবিউল, মোতালেব এবং রবিউলের ভাগিনা বাদশা।
আজ সোমবার দুপুরে আশুলিয়ার জামগর ছয়তলা এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভেতরে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় দেহের পাঁচটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডর খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে বলেন, 'গত ১৩ জুলাই থেকে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ নিখোঁজ ছিলেন। তাকে খুঁজে না পেয়ে গত ২২ জুলাই তার ছোট ভাই রিপন চন্দ্র বর্মন আশুলিয়া থানায় একটি জিডি করেন।'
তিনি আরও বলেন, 'মিন্টু চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অংশীদার রবিউল ও মোতালেব ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন যায়গায় লুকিয়ে ছিলেন। আজ মধ্যরাতে রবিউলকে আমরা রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে আটক করি।'
'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানান, গত ১৩ জুলাই রাতে রবিউল ও তার ভাগিনা বাদশা অধ্যক্ষকে হত্যা করেন। স্কুলে সান্ধ্যাকালীন কোচিং পরবর্তী রাত ৯টায় রবিউল ও তার ভাগিনা বাদশা অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে স্কুলের ৬ নম্বর কক্ষে ডেকে নেন। প্রথমে বাদশা তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। পরে রবিউল ও বাদশা দুজন মিলে মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে ছয়টি টুকরা করে পাঁচটি টুকরা স্কুলের ভেতরেরই মাটি চাপা দেন। আরেকটি অংশ পলিথিনে মুড়ে রাজধানীর আশকোনাতে একটি ডোবায় ফেলে দেয়,' যোগ করেন তিনি।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোতালেবকে রাজধানীর আশকোনা থেকে এবং বাদশাকে রংপুরের সুন্দরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কমান্ডর খন্দকার আল মঈন বলেন, 'তাদের তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, তাদের মধ্যে স্কুলের মালিকানা ও অর্থ ভাগ নিয়ে বিরোধ ছিল।'
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি, দা, সাবল এবং হত্যাকাণ্ডের সময় আসামিদের পরিহিত পোশাক ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।