সাভারে সেলাই প্রশিক্ষণের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ঢাকার সাভারে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থী প্রত্যেককে সরকারের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রায় ৩৯ জন নারী একত্রিত হয়ে প্রতারণার অভিযোগে সাভার মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।
মামলা না করে থানা থেকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
নাসিমা বেগম নামে এক ভুক্তভোগী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রূপসী বাংলা ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে ও লিফলেট বিতরণ করে ১০০ টাকার বিনিময়ে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিজ্ঞাপন দেয়। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এসব নারীদের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে তাদের (প্রতারক চক্র) ৫ হাজার টাকা দিলে প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে সরকারের পক্ষ থেকে একটি করে সেলাই মেশিন প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা ১৩৫তম ব্যাচে ৩৯ জন প্রশিক্ষণার্থী মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পাওয়ার আশায় ভর্তি হই। আমাদেরকে প্রত্যেককে ১ হাজার ৫০০ টাকার রশিদ দেওয়া হয়। বাকি টাকার কোনো রশিদ দেয়নি।'
'টাকা নেওয়ার পর কিছুদিন বিভিন্ন স্কুলে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেলাই মেশিন দেওয়া তো দূরের কথা তারা আর আসল টাকাই ফেরত দেয়নি। টাকার জন্য চাপ দিলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাজিদ হাসান রানা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়াসহ বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে,' বলে যোগ করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেওয়া ১ হাজার ৫০০ টাকার রশিদের কয়েকটি কপি দ্য ডেইলি স্টারের কাছে রয়েছে।
ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তার অভিযোগ করেন, 'দেশে করোনা মহামারি শুরুর দিকে সাভারের পৌর এলাকা ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাজিদ হাসান নিজেকে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে অনলাইনে বা মুঠোফোনে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা বলে। সর্বশেষ সেলাই প্রশিক্ষণ ও সরকারের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার করে টাকা আদায় করে। আমি নিজেও ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। প্রতারকের খপ্পরে পড়েছি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। পরবর্তীতে টাকা ফেরত দিতে চাপ দেওয়া হলে মারধর করে আমাকে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।'
ভুক্তভোগীরা মামলা করতে আজ সাভার মডেল থানায় গেলে পুলিশ প্রথমে লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। এর কিছুক্ষণ পর সাজিদ হাসান রানা থানায় গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর পুলিশ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ফিরিয়ে দিয়ে সাধারণ ডায়েরি নেন বলে অভিযোগ তাদের।
রূপসী বাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. সাজিদ হাসান রানা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। সেলাই মেশিন দেওয়ার কথাও বলা হয়নি। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। যদি কারো কাছে টাকা নেওয়ার প্রমাণ থাকে তাহলে দেখাতে বলেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি গত ২০ বছর যাবৎ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। এতোদিন কেউ অভিযোগ করেনি। এরা ভিত্তিহীন অভিযোগ করে আমাকে হয়রানীর পায়তারা করছে।'
যোগাযোগ করলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, 'একজন নারী দুপুরে বিষয়টি উল্লেখ করে তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শিবলী জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'