সাভারে ২ ভাই খুন: মামলা তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ স্বজনদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের হারুলিয়া এলাকায় ২ খালাতো ভাই হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পুলিশ গাফিলতি করছে বলে অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

মামলা তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করে তা সিআইডি বা পিআইবিতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গত বছর ১০ জুন দিবাগত রাত ৮টার দিকে ২ খালাতো ভাই এসএসসি পরীক্ষার্থী নাজমুল (১৭) ও রায়হান (১৭) বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরদিন পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের পরদিন নিহত রায়হানের মা খাদিজা বেগম সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছিলেন।

তিনি আজ সোমবার সাভার পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'ওই ঘটনায় আমি বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করি। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) জাহিদুল ইসলামকে।'

'প্রথমে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আমার ননদের ছেলে পোশাককর্মী শাহাজালালসহ ৭ জনকে আটক করা হয়। ৭ জনের মধ্যে শুধু শাহজালালকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়,' বলেন তিনি।

খাদিজা বেগম বলেন, 'মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম আমাদের বলেছেন যে শাহজালাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি বলেছেন যে শাহজালাল ও তার বন্ধু রবিউল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'তদন্ত কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে আমরা অনাস্থা প্রকাশ করি। আমরা তাকে আমার বোন জামাইয়ের ভাই মাইনুদ্দিন ও ভাতিজা বায়েজিদসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুরোধ করি। তিনি আমাদের কোন কথাই শোনেননি। ঘটনার ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার তালিকাভুক্ত আসামি রবিউলকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি।'

'এ অবস্থায় আমরা মামলার তদন্তভার সিআইডি অথবা পিআইবিতে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছি,' বলেন খাদিজা।

নিহত নাজমুলের বাবা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমার ভাই মাইনুদ্দিন ও আমার ভায়রা ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক বিরোধ ছিল। আমাদের ধারনা তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বা পরিকল্পনাকারী। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আমরা এ কথা বলার পর তিনি আমাদের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করেন।'

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যায় নিহত রায়হানের ফুপাত ভাই শাহজালালের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন যে তিনি ও তার বন্ধু রবিউল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আমরা রবিউলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।'

মামলা তদন্তে গাফিলতি ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'তদন্তে কোনো প্রকার গাফিলতি করা হয় নি। তারা মামলায় কয়েকজনের নাম দিতে চেয়েছিলেন। আমি সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের নাম দেইনি এবং জিজ্ঞাসাবাদও করিনি।'

৯ মাস পার হলেও মামলার চার্জশিট কেন দেওয়া হয়নি, জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, 'আসামি রবিউলকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে চার্জশিট দেওয়া হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আদালতে চার্জশিট দিয়ে দেবো।'