সালথায় আ. লীগের ২ পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১২
ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের ২ পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের ঠাকুর পাড়ার এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।
যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান রফিক মোল্লার সমর্থক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে নিহত ঠাকুর পাড়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম (২৭) পেশায় কৃষক ছিলেন।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিক মোল্লার সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়ার বিরোধ চলছিল।
বিরোধের জেরে আজ সকালে রফিকের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলমগীর মিয়ার সমর্থকদের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। এতে আলমগীরের সমর্থক সিরাজুল নিহত হন।
এ হামলায় আলমগীরের আরও ১২ সমর্থক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সিরাজুল নিহতের খবরে আলমগীরের সমর্থকরা রফিকের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় লুটপাত ঘটনাও ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, 'ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।'
পুলিশ সুপার বলেন, 'যদুনন্দীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই পক্ষকে নিয়ে এর আগে আলোচনা হয়েছে অস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে। তারপরও ওই এলাকাকে শান্ত করা যাচ্ছে না।'
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রফিক মোল্লা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল এই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
সে সময় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক ও আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামি করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
গত ২৮ এপ্রিল রফিক ও আলমগীর জামিন পেয়ে বাইরে আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
