সিনহাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লিয়াকত ও প্রদীপ: আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইন-চার্জ লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ পরিকল্পিতভাবে সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যা করে বলে রায়ে জানিয়েছেন আদালত।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল আজ সোমবার বেলা ২টা ২৬ মিনিট থেকে ৪টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত রায়, পর্যবেক্ষণ ও সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। বিচারক ৩০০ পৃষ্টা রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান। কোন আসামির কী অপরাধ, তারা কীভাবে এই হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ছিলেন সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন তিনি।

আদালত বলেন, সিনহা হত্যা পরিকল্পিত, ষড়যন্ত্রমূলক ছিল নাকি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটেছে এ বিষয়গুলো খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছে আদালত। গুলি করা ছাড়া ঘটনাটি এড়ানোর কোনো সুযোগ ছিল সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে আদালত। সামগ্রিক সাক্ষপ্রমাণ থেকে প্রমাণ হয়েছে এটা পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

আদালত জানান, সাক্ষীরা বলেছেন হত্যাকাণ্ডের আগে সিনহা মো. রাশেদকে দুইটি চেকপোস্টে স্যালুট করা হয়েছে। অর্থাৎ তার পরিচয় সুনিশ্চিত থাকার পরও হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।

আদালত বলেন, লিয়াকত আলী ও প্রদীপ কুমার দাশ পারস্পরিক যোগসূত্রের মাধ্যমে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। এ কারণে তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৬ জন আসামি এই হত্যাকাণ্ডে লিয়াকত ও প্রদীপকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী। সুতরাং তাদের এই হত্যাকাণ্ড থেকে দায়মুক্তি দেওয়া যায় না। এ কারণে আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

লিয়াকত ও প্রদীপকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আদালত বলেন, সিনহা মো. রাশেদের হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। লিয়াকতের অপরাধ সম্পর্কে আদালত বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী, দালিলিক প্রমাণ, মৌখিক সাক্ষ্য ইত্যাদির ভিত্তিতে মামলার আলামত নষ্ট করা, মামলা ভিন্নখাতে নেওয়া, সিনহার সহযোগী সিফাতের বিরুদ্ধে খুন ও মাদকের মিথ্যা মামলাসহ অন্যান্য সাজাযোগ্য অপরাধ করেছেন।

প্রদীপের অপরাধ সম্পর্কে আদালত বলেন, সিনহা মো. রাশেদের বুকের বাম পাশে লাথি মেরে ও হাসপাতালে পাঠাতে বিলম্ব ঘটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন প্রদীপ। এছাড়া খুন ও মাদকের মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রদীপ সাজাযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এ ছাড়া খালাস পাওয়া ৭ আসামির বিষয়ে আদালত বলেছেন, এই ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, তারা নির্দোষ। এ কারণে তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।