শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

সিরাজগঞ্জের তারাশে এক স্কুল ছাত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারাশ সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটি আজ সোমবার থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহিয়া রহমান তারাশ সরকারি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী। গত শনিবার দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গণে এই নির্যাতনের ঘটনার পর থেকে স্কুলে যেতে পারছে না সে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মজিবর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার মেয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলি হাসানের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় প্রধান শিক্ষক তার উপর রাগান্বিত ছিল। শনিবার টিফিনের পর বন্ধুদের সঙ্গে প্রাইভেট পরা নিয়ে কথা বলার সময় প্রধান শিক্ষক তাকে ডেকে নিয়ে বেত দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।'

'পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে জানা যায় তার হাতের হাড়ে ফাটল হয়েছে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসার পর বর্তমানে বাড়িতে তার চিকিৎসা চলছে,' বলেন তিনি।

এ ঘটনার পর থেকে তার মেয়ে অসুস্থতা কারণে ও প্রধান শিক্ষকের ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না বলে জানান তিনি।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলি হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মাহিয়া স্কুলে মোবাইলে কারো সঙ্গে গল্প করছিল। এ সময় তাকে ধমক দেওয়া হলে সে দূরে গিয়ে আমাকে নিয়ে অকথ্য গালিগালাজ করে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি তাকে ডেকে নিয়ে এসে বেত দিয়ে সামান্য বেত্রাঘাত করি। হাত ভাঙ্গার মতো ঘটনা ঘটেনি।'

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা তারাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল করিম বলেন, 'তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর এ ব্যাপারে পরবর্তি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তদন্ত কমিটি সোমবার থেকে তদন্তের কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বেত্রাঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আগামী বুধবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।