স্ত্রীর সন্ধান জানতে সহকর্মীর মেয়েকে অপহরণ, ২ মাস পর উদ্ধার
ঢাকার আশুলিয়া থেকে অপহৃত দেড় বছরের শিশু আঁখিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। অপহরণকারী মো. রাশেদুল ইসলামকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করার পর শিশুটিকে অপহরণকারীর ফুপুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
গত ৩১ মার্চ শিশু আঁখি তার ভাই মিরাজের (৫) সঙ্গে বাড়ির বাইরে খেলছিল। অপহরণকারী রাশেদুল কিছু টাকা দিয়ে মিরাজকে দোকানে চকোলেট কিনতে পাঠায়। এর ফাঁকে তিনি আঁখিকে কোলে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। প্রায় ২ মাস পর অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে গতকাল শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার কারওয়ানবাজারে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ খবর জানান র্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক।
তিনি জানান, অপহরণে অভিযুক্ত রাশেদুল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সম্প্রতি তার স্ত্রী নুরজাহান তাদের সংসার ও সন্তান ফেলে চলে গেছেন। তিনি যে শিশুটিকে অপহরণ করেন তার মা মিরা আক্তারের সঙ্গে একই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন নুরজাহান। রাশেদুলের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, মিরা জানেন তার স্ত্রী কোথায় গেছেন। এই ধারণা থেকেই তিনি মিরার কাছে স্ত্রীর খবর চেয়েছিলেন।
কিন্তু প্রত্যেকবারই মিরা রাশেদুলকে বলেন যে নুরজাহানের কোথায় আছেন তা তিনি জানেন না। রাশেদুলের সন্দেহ দূর না হওয়ায় তিনি মিরার দেড় বছরের শিশু আঁখিকে অপহরণের পরিকল্পনা আঁটেন। ৩১ মার্চ রাশেদুল শিমুলিয়ার টেঙ্গুরী এলাকা তাদের বাসায় যান। এসময় মিরা ও তার স্বামী সাদ্দাম বাসায় ছিলেন না। রাশেদুল কৌশলে ওই দম্পতির পাঁচ বছরের ছেলে মিরাজকে ১০টাকা দিয়ে দোকানে পাঠিয়ে আঁখিকে কোলে নিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরদিন ১ এপ্রিল শিশুটির দাদা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৪।
র্যাব জানায়, অপহরণের পর রাশেদুল শিশুটিকে তার ফুপু রোকসানা বেগমের জিম্মায় রাখেন। রোকসানার নিজের কন্যা সন্তান নেই। কন্যা সন্তানের জন্য কাতর হওয়ায় এতদিন তিনি শিশুটিকে আদরের সঙ্গে লালন করেন।
র্যাব বলেছে, অপহৃত শিশুটির অবস্থান জানার জন্য পুলিশ, র্যাবসহ সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক তৎপরতা চালাতে থাকে কিন্তু আসামি অজ্ঞাত হওয়ায় শিশু আঁখিকে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না। ঘটনার এক সপ্তাহ পর অপহরণকারী রাশেদ মিরা ও সাদ্দামকে ফোন করে জানায় যে, আঁখি তার হেফাজতে আছে এবং তার স্ত্রীর সঠিক ঠিকানা জানালে তাকে ফেরত দেওয়া হবে। এর পরও নিজের স্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য না পেয়ে তিনি আঁখির বাবা-মায়ের কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী আঁখির বাবা-মা তাকে মোবাইলে ২০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু রাশেদ এই টাকা উত্তোলন না করে মোবাইল ব্যবহার করাই বন্ধ করে দেয়। তিনি আঁখিকে কালিয়াকৈর থানার রতনপুর এলাকায় তার ফুপু রোকসানার কাছে নিজের মেয়ে পরিচয় দিয়ে রেখে নিজের জেলা রংপুরে আত্মগোপন করেন। গত সোমবার রাতে রংপুর শহরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রোকসানার হেফাজত থেকে আঁখিকে উদ্ধার করা হয়।
এই অপহরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে র্যাব জানিয়েছে।